এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী মাছের ঔষধ বিক্রি না করে বিক্রেতা দিয়েছেন বিষঃ সব মাছ মারা যাওয়ায় মৎস্য চাষির মাথায় হাত

Nokla Fish Die 206x300 ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী মাছের ঔষধ বিক্রি না করে বিক্রেতা দিয়েছেন বিষঃ সব মাছ মারা যাওয়ায় মৎস্য চাষির মাথায় হাত
মোঃ মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর) :

শেরপুরের নকলায় ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অক্সি-এ নামের ঔষধ না দিয়ে বিক্রেতা মাছ মারার বিষ দেওয়ায় এবং মৎস্য চাষি তা প্রয়োগ করায় ৮২ শতাংশ জমির পুকুরের সব মাছ মারা গেছে, এতে কমপক্ষে তিন লাখ টাকার মাছ মারা যায় বলে ধারনা করছেন স্থানীয়রা। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে নির্বিকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার টালকী ইউনিয়নের নয়াবাড়ী পোয়াবাগ এলাকার মৎস্য চাষি আব্দুস সালাম।

সালাম উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুলতানা লায়লা তাসনীমের অফিসে ওই ঔষধ ও কিছু মরামাছ নিয়ে এসে বিচার প্রার্থনা করেন। পরে ঔষধ বিক্রেতা শাওন বীজ ভান্ডারের মালিক দুদু মিয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মালিক সালাম, সালামের ছেলে এনায়েত উল্লাহ, পল্লী চিকিৎসক বজলুর রহামনসহ স্থানীয় কয়েকজন মাছের ঔষধ বিক্রেতা ও মৎস্য চাষিদের নিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আলোচনায় বসেন মৎস্য কর্মকর্তা সুলতানা লায়লা তাসনীম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত সালামকে কিছু ক্ষতিপূরণ দিতে দুদু মিয়াকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু দুদু মিয়া কোন ক্রমেই তার ভুল স্বীকার না করে উল্টা সালামকে দোষারোপ করেন। দুদু মিয়া বলেন, সালাম নাকি তার কাছে মাছ মারার ঔষধ চেয়েছেন। তাই তিনি ওই ঔষধ দিয়েছেন। সালাম ও ওই সময় উপস্থিত বজলুর রহমান জানান, তারা মৎস্য অফিস থেকে ব্যবস্থা পত্র করে নিয়ে তা দুদুর হাতে দিয়েছেন। দুদু তাদের এই ঔষধ দিয়েছেন। রাত ৮টা থেকে মাছ মরা শুরু হলে তাৎক্ষণিক তারা উপজেলা মৎস্য অফিসে বিষয়টি জানালে অফিসের কর্মকর্তারা অবাক হয়ে বলেন, আমরা যে ঔষধ দিয়েছি তাতে মাছ মরার কথা নয়। অফিস থেকে ঔষধের নাম জানতে চাইলে সালাম ঔষধের নাম বলতে পারেননি বলে জানালেন ক্ষেত্র সহকারী সিহাব উদ্দিন। তবে স্থানীয় কয়েকজন ঔষধ দেখে জানান যে, এটি মাছ মারার ঔষধ। সালাম মাছ চাষের জন্য কৃষিব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েও তিনি মহা চিন্তায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে সুষ্ঠু বিচার সালাম কামনা করেন। কোন সুরাহা না হওয়ায় নকলা থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সরাকার বলেন, এটি নেহায়েত অন্যায় কাজ। না জেনেশুনে বা ব্যবস্থা পত্র না দেখে ঔষধ বিক্রি করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। অতএব বিষয়টি কেন্দ্র করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৬-২০১৭. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)