এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

কালিবাউস মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদন-১ম পর্ব

Share

কালিবাউস মাছের কৃত্রিম প্রজনন

ড. মো: শাহাআলী ও মো: আব্দুর রব মন্ডল

কালিবাউস মাছের কৃত্রিম প্রজনন

কালিবাউস মাছ দেখতে অনেকটা রুই মাছের মত। এর দুই জোড়া গোঁফ আছে। কালিবাউস মাছ পুকুরের তলদেশে বাবাস করে। এরা শিকারী মাছের মত আচরন করে এবং পুকুরের/ট্যাংকের তলদেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে থাকে। কালিবাউস খুবই সুস্বাদু মাছ বিধায় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রাকৃতিক উৎস থেকে কালক্রমে মাছটির প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মাছটির সফল কৃত্রিম প্রজনন, পোনা উৎপাদন ও চাষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃত্রিম প্রজনন কৌশল

প্রজননক্ষম কালিবাউস মাছ সংগ্রহঃ সাধারণত কালিবাউস মাছ ৩য় বছরে প্রজননের জন্য পরিপক্ক হয়ে থাকে। কৃত্রিম প্রজননের জন্য নদী উৎস (হালদা/যমুনা/ব্রহ্মপুত্র) বা ব্রুড পুকুর থেকে প্রজননক্ষম মাছ সংগ্রহ করা হয়। মাছের নিম্মলিখিত বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখে প্রণোদিত প্রজননের জন্য পরিপক্ক ব্রুড মাছ নির্বাচন করা যায়ঃ

পুরুষ কালিবাউস
বক্ষ পাখনার তলদেশ খসখসে থাকবে। জননেন্দ্রিয় সাধারণত সাদাটে হয় এবং সামান্য ভিতরে ঢুকানো থাকে। জনন ছিদ্রের কাছে হালকা চাপ দিলে সাদা তরল ঘন শুক্র বের হবে। সুপরিপক্ক মাছের শুক্র বেশ ঘন হয়।

স্ত্রী কালিবাউস

পেট অধিক স্ফীত, নরম ও তুলতুলে থাকবে। জননছিদ্র ঈষৎ ফোলা ও বড় থাকবে এবং লালচে বা গোলাপী বর্ণ ধারণ করবে।
পেটে চাপ দিলে ডেবে যাবে, চাপ সরালে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। পরিপক্ক মাছের ডিম্বাশয় পুরু হয়ে জননছিদ্র পর্যন্তÍ বিস্তৃত থাকবে।

প্রজননক্ষম মাছের কন্ডিশনিং
ক্স সকালের দিকে বেড় জাল টেনে পরিপক্ক প্রজননক্ষম স্ত্রী ও পুরুষ মাছ উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলী দ্বারা নির্বাচন করে ধরতে হবে।
ক্স নির্বাচিত স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে আলাদা আলাদা বিশ্রাম ট্যাংকে ৫-৬ ঘন্টা ধরে নিরবিচ্ছিন্ন পুকুরের পানি সরবরাহে রাখতে হবে। এতে মাছের পেট থেকে মল এবং অতিরিক্ত খাদ্য বমি করে বের করে দিয়ে মাছগুলো শক্তিশালী এবং চঞ্চল হবে। সেই সাথে হ্যাচারীর পানির সাথে ট্যাংকে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
ক্স একটি স্ত্রী মাছের জন্য দেড় থেকে দুইটি পুরুষ মাছ ধরতে হবে। সব সময় মনে রাখতে হবে যে ব্রুড মাছ যেন কোনক্রমেই আঘাত প্রাপ্ত না হয়। আঘাত প্রাপ্ত মাছ প্রজননে ভাল ফল দেয় না বা ভাল প্রজনন করে না।

হরমোন প্রয়োগঃ কন্ডিশনিং শেষে স্ত্রী মাছকে ১ম হরমোন ইনজেকশন দেয়া হয়। মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের সিনথোটক হরমোন প্রচলিত থাকলেও পিটুইটারী গ্ল্যান্ড (পিজি) ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল ও নিরাপদ। কালিবাউস মাছ সাধারনত প্রাকৃতিক পরিবেশে এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রজনন করে থাকে। কৃত্রিম প্রজননের জন্য এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসে স্ত্রী মাছকে শরীরের ওজনের ২ মিগ্রা./ কেজি ১ম হরমোন ডোজ হিসেবে পিজি প্রয়োগ করা হয়। প্রথম হরমোন ডোজ এর ৬ ঘন্টা পর স্ত্রী মাছকে ৬ মিগ্রা./কেজি হিসাবে ২য় হরমোন ডোজ দেয়া হয়। স্ত্রী মাছকে ২য় ইনজেকশন দেওয়ার সময় পুরুষ মাছকে শরীরের ওজনের ২মিগ্রা./কেজি হিসেবে একটি মাত্র হরমোন ডোজ প্রয়োগ করা হয়। প্রজননের মাস এবং মাছের বাহ্যিক পরিপক্কতার ভিত্তিতে হরমোন ডোজের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

সারণি ১. মাসভিত্তিক কালিবাউস মাছের পিজি প্রয়োগের মাত্রা

মাস ডোজ (মিগ্রা./কেজি ব্যবধান
(ঘন্টা)
 ২য় ডোজ
(মিগ্রা./ কেজি)
  ওভোলেশন
(ঘন্টা)
এপ্রিল-মে ৫.৫ ৫-৬
জুন-জুলাই ৫-৬
আগস্ট-সেপ্টেম্বর ৫-৬

(চলবে ) আগামী পর্ব দেখুন


লেখকদ্বয়ঃ মাৎস্য বিজ্ঞানী, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০১৮. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)