এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

ছোট নার্সারি করার নানা খুঁটিনাটি বিষয় জেনে রাখা ভাল

Share

নার্সারি

 

কৃষিসংবাদ ডেস্কঃ

বসতবাড়ির পাশে পরিত্যক্ত অল্প জায়গায় পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য বা স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সবজি, মশলা, ফল, ফুল, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ ও বনজ চারা-কলম উৎপন্ন ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মিনি নার্সারি স্থাপন করতে পারেন। এসব নার্সারিতে সাধারণত প্রচলিত চারা-কলম স্বল্পসংখ্যক মজুদ থাকে। কখনও কখনও অপ্রচলিত চারা-কলমও প্রদর্শনীর জন্য কয়েকটি করে নমুনা নার্সারির গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য রাখা যেতে পারে।

(১) বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন-পেঁপে, লেবু, পেয়ারা, কাঁঠাল, আমড়া, ডালিম, কুল, আম, লিচু ইত্যাদি। (২) সবজি ও মশলা জাতীয় যেমন-বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, পেঁয়াজ ইত্যাদি। (৩) ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক যেমন-গোলাপ, জবা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গন্ধরাজ, কামিনী, টগর, রঙ্গন, মুসান্ডা, দেবদারু, পাতাবাহার, রাবার ইত্যাদি এবং (৪) বনজ ও ভেষজ যেমন-নিম, মেহগনি, সেগুন, রেইনট্রি, কড়ই, অর্জুন, আমলকী, হরিতকী, বহেরা, কৃষ্ণচূড়া, কদম, বট ইত্যাদি। অধিকাংশ মিনি নার্সারি বসতবাড়ি সংলগ্ন বা বসতবাড়ির কাছাকাছি হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ এতে এটির দেখভাল করার সুবিধা হয়। মিনি নার্সারি তৈরিতে খুব বেশি বড় জায়গার যেমন প্রয়োজন হয় না, তেমনি প্রয়োজন হয় না স্থায়ী অবকাঠামো তৈরিরও। তবে অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি না করে অনেক সময় নিজ বাড়ির যে কোনো ঘরই ব্যবহার করা যেতে পারে। নার্সারি যত ছোটই হোক না কেন, এর জন্য বাজেটসহ একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়। পরিকল্পনার তিনটি বিষয় থাকে।

আর্থিক: যেখানে নার্সারির যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অবকাঠামোগত: যেখানে নার্সারির সব স্থাপনা ও লেআউট বা নকশা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

উপকরণগত: যেখানে নার্সারিতে ব্যবহৃত সব ধরনের যন্ত্রপাতির এবং উদ্ভিদের বংশবিস্তার সামগ্রী (যেমন-বীজ, সায়ন, আদি জোড় বা রুট স্টক ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত থাকে। মিনি নার্সারি স্থাপনের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন স্থান নির্বাচন। নার্সারির স্থানটিতে যেন আলো-বাতাস চলাচল ভালো থাকে ও ছায়াযুক্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। এছাড়া বর্ষায় বা বৃষ্টি হলে নার্সারিতে পানি ওঠে না, পানি জমে না এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো এমন উঁচু সমতল জমিই নার্সারির জন্য নির্বাচন করতে হয়। মাটি উর্বর বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ প্রকৃতির হলে ভালো হয়। আশপাশের জঙ্গল বা আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। মিনি নার্সারিতে মৌসুমভিত্তিক ফুল, সবজি ও মশলার চারা উৎপাদনের পাশাপাশি অল্পসংখ্যক বা নির্দিষ্টসংখ্যক ফল এবং সৌন্দর্যবর্ধক গাছ ও বনজ চারা-কলম উৎপাদনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। স্থানীয় চাহিদার বা নির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে এ ধরনের নার্সারি গড়ে ওঠে বলে চারা-কলম পরিবহনের খরচ কম পড়ে এবং সুস্থ ও সতেজ চারা-কলম সরবরাহ করা সম্ভব হয়। তবে নিজের জায়গায় নার্সারি করা সম্ভব না হলে লিজ বা ভাড়ার খরচ বেশি পড়ে এবং পশুপাখি বা মানুষের দ্বারা নার্সারির ক্ষতি হতে পারে যদি ঘেরা-বেড়ার ব্যবস্থা ভালো না হয়। মিনি নার্সারিতে সাধারণত দুই ধরনের বেড তৈরি করা হয়। সরাসরি বীজ বপন করে চারা উত্তোলন করার জন্য উঁচু বেড তৈরি করতে হয়। পলিব্যাগ স্থাপনের জন্য জমির সমতল থেকে কিছুটা মাটি খুঁড়ে বেড তৈরি করতে হয়। দুই বেডের মাঝে ৩০ সেন্টিমিটার ফাঁকা নালা রেখে দিতে হয়।

সরাসরি বীজ বপনের জন্য জৈব সার ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে কয়েক দিন রাখার পর বীজ বপন করা উচিত। এর আগে নুড়ি, পাথর, ইটের টুকরা, ঘাস, শিকড়, আগাছা বা আবর্জনা পরিষ্কার করে মাটি ভালোভাবে চাষ দিয়ে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ঝুরঝুরে করতে হয়। অন্যদিকে, পলিব্যাগ স্থাপনের জন্য বেডের চারধার উঁচু ও মধ্যস্থান সমতল করতে হয়। নার্সারিতে চারা-কলম সুষ্ঠুভাবে উত্তোলনের জন্য পানির প্রয়োজন। এজন্য নার্সারি স্থাপনের আগেই পানির প্রাপ্যতা বা পানির উৎস নিশ্চিত করতে হয়। আশপাশের পুকুর, খাল, ডোবা, কূপ বা টিউবওয়েল থেকে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই পরিষ্কার পানি ব্যবহার করতে হয়। বিদ্যুতের সুবিধা থাকলে অনেকেই ছোট মোটর ব্যবহার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে নালায় পানি ব্যবহার না করে ফিতা পাইপ দিয়ে বেডে পানি দেয়া যেতে পারে। নার্সারির অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা আগেই করে রাখতে হয়। নার্সারিতে যেন কোনোক্রমেই সেচ বা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি বেশিক্ষণ জমে না থাকে সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়। মিনি নার্সারিতে কিছু পরিচর্যাগত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। এজন্য প্রতি বছর মাটি শোধনের এবং রোগ-পোকামাকড় থেকে চারা-কলমকে রক্ষার জন্য মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা করতে হয়। এছাড়া সব ধরনের আগাছা ও অন্যান্য আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করে নার্সারিকে ঝকঝকে করে রাখতে হয়। চারা-কলমের অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করে কাঙ্ক্ষিত আকার-আকৃতি রাখতে হয়। ৩ থেকে ৪ মাস পর পর পলিব্যাগের চারা স্থানান্তর করতে হয়, যেন শিকড় মাটিতে গেঁথে না যায়। এসব কাজের উদ্দেশ্যই হলো যখন কোনো ক্রেতা বা দর্শনার্থী নার্সারিতে আসবেন, তখন তার দৃষ্টিতে যেন নার্সারির কোনো দোষত্রুটি ধরা না পড়ে। নার্সারির মূল যে জিনিস চারা-কলম সেগুলোর উন্নত মান নিশ্চিত করার জন্য দুটি দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

কৃষির আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিনঃকৃষিসংবাদ.কম

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৬-২০১৭. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)