এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

নার্সারীর ফলবাগান ও মাতৃবাগান পরিচর্যা করবেন যেভাবে

Share

আমজাদ  হোসেন সরদারঃ

ফলবাগান ও মাতৃবাগান পরিচর্যা ঃনার্সাNursery cultureরীর মাতৃবাগান ও ফলবাগানের গাছপালার নানা যত্ন আত্তি নিতে হয় সময়মত। কথায় আছে যত্ন নিলে রত্ন মিলে। সময়মত অবাঞ্চিত ডালপালা ছাটাই ও  প্রুনিং করা খুব জরুরী। আসুন এ নিয়ে আলোকপাত করা যাক।

ফলবাগান ও মাতৃবাগান
ক) ফলবাগান
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুধু ফল উৎপাদনের জন্য যে বাগান করা হয় সেটাকে ফল বাগান বলা হয়। ফলবাগানে ফলগাছের রোপণ, পরিচর্যা, ব্যবস্থাপনা মূলত ফল উৎপাদনবৃদ্ধি বা ফলের গুণাগুণ রক্ষার্থে করা হয়।
খ) ফলবৃক্ষ সংরক্ষণাগার
এখানে মুক্তায়িত বিভিন্ন প্রজাতি বা স্থানীয় উন্নত জাতের ফলবৃক্ষ সংরক্ষণকরা হয়। মূলত ফলবৃক্ষ সংরক্ষণাগারে গাছগুলো সর্বদা সুরক্ষিত অবস্থায় থাকবে।এখান থেকে সাধারণত সায়ন সংগ্রহ করা হয় না। এই বাগানের প্রতিটি গাছের তথ্যসংরক্ষিত থাকে।
গ) ফলগাছের যাদুঘর বা ফল জার্মপ্লাজম সেন্টার
এখানে মুক্তায়িত বা অবমুক্তায়িত, ভাল-মন্দ, দেশি-বিদেশি, প্রচলিত বাঅপ্রচলিত, হারিয়ে যাচ্ছে বা বিলুপ্তপ্রায় সকল প্রকারের ফলগাছের সংরক্ষণ করাহয়। জার্মপ্লাজম সেন্টারে শুধুমাত্র মুক্তায়িত জাতের হুবহু বংশীয় গুণাগুণসমৃদ্ধ (Pedigree maintained) গাছ হতে মান সম্পন্ন চারা/কলম (Quality planting material) উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এছাড়া জার্মপ্লাজমসেন্টারে গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়। তদুপরি জার্মপ্লাজম সেন্টারে উন্নত উৎপাদনকলাকৌশল প্রযুক্তি ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ধরণেরবাগানের প্রতিটি গাছের তথ্য নিয়মমাফিক সংরক্ষিত থাকা বাঞ্ছনীয়।
ঘ) ফলগাছের মাতৃবাগান
ফলগাছের যে বাগান শুধু মানসম্পন্ন চারা/কলমের সায়ন উৎপাদনের জন্য স্থাপন ওসংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয় তাকে ফলগাছের মাতৃবাগান বলে। এই বাগান বিভিন্নপ্রকারের হয়ে থাকে যেমনঃ
এলাইট ফ্রুট ট্রি রিপোজিটরি
এই বাগানে শুধু মাত্র সরকার কর্তৃক মুক্তায়িত ঐ এলাকার জন্য অনুমোদিত উন্নতজাত সংরক্ষণ করা হয়। এই বাগান মূলত ফল বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্থাপন করা হয়। ভিত্তি শ্রেণীর কলম উৎপাদনের জন্য এধরনের বাগান থেকে সায়ন নেয়া হয়। তবে গাছের চি‎হ্নিত অবয়ব (Identifying structure) যাতে কোন ভাবেই বিকৃত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ফ্রুটট্রি রিপোজিটরিতে সংরক্ষিত জাতগুলোর পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যাতে বজায় থাকেসর্বদা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই শ্রেণীর মাতৃগাছের বাগানে প্রতিটি গাছেরতথ্য যথানিয়মে সংরক্ষিত থাকতে হবে।
এলাইট ফ্রুট ট্রি মাল্টিপ্লিকেশন ব্লক
এই শ্রেণীর মাতৃগাছের বাগান গবেষণাগার পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলগাছেরমুক্তায়িত জাতের হুবহু মাতৃগুন সম্পন্ন গাছের সমন্বয়ে এ বাগান  প্রতিষ্ঠাকরা হয়। এ জাতীয় বাগানে গাছ থেকে সংগৃহীত সায়ন দিয়ে ভিত্তি শ্রেণীর মাতৃগাছউৎপন্ন করা হয়।
ভিত্তি মাতৃগাছের বাগান বা এফএমটিও
এফএমটিও বা ভিত্তি মাতৃগাছের বাগান, যা সাধারণত মুক্তায়িত জাত এবং স্থানীয়উন্নত জাত দিয়ে করা হয়ে থাকে। এই বাগানের মূল উদ্দেশ্য হল মানসম্পন্ন চারাউৎপাদন করে স্থানীয় মাতৃবাগান (এলএমটিও) করার জন্য সরবরাহ করা। এ ধরনেরবাগান উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় সক্ষম সরকারি সংস্থায় (যেমন-কৃষি সম্প্রসারণঅধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা উপযুক্ত বেসরকারী সংস্থায়)স্থাপিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
স্থানীয় মাতৃগাছের বাগান বা এলএমটিও
এলএমটিও বা স্থানীয় মাতৃগাছের বাগান মূলত উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের সরকারীবেসরকারী প্রতিষ্ঠান, নার্সারি মালিক সমিতি এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়েস্থাপিত নার্সারিতেও গড়ে উঠতে পারে। এখানে মুক্তায়িত ও স্থানীয় উন্নত জাতেরগাছ লাগানো হয়। এই মাতৃবাগান হতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্যনার্সারি মালিকগণ উন্নত জাতের সায়ন সংগ্রহের মাধ্যমে মানসম্পন্ন কলম বাচারা (QPM) তৈরি করে এবং ফল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে গাছ লাগাতে আগ্রহী কৃষক বাজনসাধারণের মাঝে সরবরাহ করে থাকে।
মাতৃগাছ (MT)
যে সমস্ত নার্সারিতে বা প্রতিষ্ঠানে একক জায়গায় মাতৃ বাগান (MTO) করা সম্ভবনয়, সেখানে সঠিক জাতের মাতৃগাছ সুবিধাজনক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে লাগিয়েমাতৃগাছ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রকৃত মাতৃগাছইযেন রাখা হয় এবং ঐ প্রকৃত মাতৃগাছ হতেই সায়ন নিয়ে মানসম্পন্ন চারা উৎপন্ন ওসরবরাহ করা যায়।
ক্লোনাল হেজ
নার্সারিতে যদি জায়গা খুব কম থাকে, তবে সায়নয়ের উদ্দেশ্যে ঘন করে মুক্তায়িতবা স্থানীয় উন্নত জাতের গাছ লাগাতে যেতে পারে। এতে অল্প জায়গায় অনেক সায়নপাওয়া যাবে। এ জাতীয় মাতৃগাছের সংগ্রহশালাকে ক্লোনাল হেজ বলে।

মাতৃগাছের ছাঁটাইকরণ

ফল বাসায়ন উৎপাদন সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে মাতৃগাছের ব্যবস্থাপনা কৌশলের উপর। এইলক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেকটি মাতৃগাছের রোপণ থেকে ফল/সায়ন ধারণপর্যন্ত নিয়মিত ও প্রয়োজনমত নিবিড় যত্ন নিতে হবে। ফলগাছের চারা লাগানোর পরপ্রথম কাজ গাছকে একটি শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করা যাতে করে গাছটি ভালভাবেবিস্তৃতি লাভ করে।  উপযুক্ত ট্রেনিং কৌশল অর্থাৎ সঠিক সময়ে এবং সঠিকপদ্ধতিতে প্রুনিং করার মাধ্যমে এই উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে।
মাতৃগাছের কাঠামো প্রদানের জন্য ট্রেনিং/প্রুনিং
ফল গাছের সায়ন উৎপাদন ক্ষমতা, ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রচুর পরিমাণেপুষ্পায়ন এবং ফলধারণ বৃদ্ধি করার জন্য গাছের যে কোন অংশের অপসারণ করাকেপ্রুনিং বলে। আর একটি নির্দিষ্ট দৈহিক আকৃতি প্রদানের জন্য গাছের প্রাথমিকঅবস্থায় যে প্রুনিং করা হয় তাকে ট্রেনিং বলে। ট্রেনিং/প্রুনিং এমনই কৌশল বাব্যবস্থা যা গাছের উপযুক্ত আকার এবং আকৃতি দিয়ে গাছের উৎপাদন ক্ষমতাবৃদ্ধি, পুষ্পায়ন, ফল ধারণ, এমনকি ফলের গুণগত মান বৃদ্ধির নিশ্চয়তা প্রদানকরে।
ট্রেনিং এর উদ্দেশ্য
ক) গাছের সঠিক আকার-আকৃতি এবং উচ্চতা প্রদান।
খ) ভবিষ্যতে গাছকে বেশি সায়ন উৎপাদনক্ষম (Scion Production) ও বেশি ফলবান করার উদ্দেশ্যে গাছ যাতে সুষমভাবে বেড়ে উঠতে পারে তা নিশ্চিত করা।
গ) ঝড়-তুফানে যাতে সহজে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তার জন্য গাছকে সুগঠিত ও মজবুত অবকাঠামো প্রদান করা।
ঘ) নির্দিষ্ট জমিতে বেশি পরিমাণে গাছ লাগানো।
ঙ) গাছের বিভিন্ন পরিচর্যা যেমন: কীটনাশক প্রয়োগ, সায়ন সংগ্রহ প্রভৃতি সহজতর করা।
চ) গাছের কাঙিক্ষত উচ্চতা বজায় রেখে কৃষি উপকরণ সমূহের অর্থনৈতিক ব্যবহার করা।
ছ) গাছকে সুনির্দিষ্ট আকার প্রদান করে বায়ুরোধী বা ভূমি ক্ষয়রোধক হিসাবে ব্যবহার করা।
জ) সায়ন/ফলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা।
ঝ) মূল এবং শাখার বৃদ্ধির (Root-Shoot-Ratio) মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।
প্রুনিং এর উদ্দেশ্য (Objectives of Pruning)
ক) প্রুনিং এর প্রধান উদ্দেশ্য হল গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধি ও ফল ধারণের মধ্যে সাম্যতা আনয়ন করা।
খ) ফল উৎপাদন শাখা প্রশাখা (fruiting branches) সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
গ) গাছের উৎপাদন ক্ষমতা এবং ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি করা।
ঘ) অনুৎপাদনশীল গাছে ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন ডালপালা গজানো (Rejuvenzation)।
ঙ) গাছের কোন ক্ষতস্থানে সারানো।
চ) রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হ্রাস করা।
ছ) ফলগাছের একান্তরক্রমিক (Alternate bearing) (এক বছর পর পর ফলধরা বিষয়ক) ফলনের প্রভাব কমানো।
জ) গাছের আভ্যন্তরীণ অঙ্গজ শাখার (interbranchal) প্রতিযোগিতা  হ্রাস করা।
ঝ) গাছের সব অংশে সমানভাবে আলো-বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা।
ঞ) ফল বাগানের ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানো।
ট) কৃষি বনায়ন পদ্ধতিতে বহুস্তর বিশিষ্ট বাগানে সকল স্তরের গাছে সমানভাবে আলো বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা।
ঠ) পরবর্তী বছরগুলোতে ফুল-কুঁড়ির বিকাশ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা প্রদান করা।
ঢ) বেশি সংখ্যক ফল ধারণের নিশ্চয়তা প্রদান করা।
ঢ়) ফলের গুণগত মান, বর্ণ এবং আকার উন্নত করা।
ট্রেনিং এর নীতিমালা
গঠন(Form)
সাধারণত ট্রেনিং এর বেশিরভাগ অংশ অঙ্গজ বৃদ্ধির প্রাথমিক অবস্থায় করা হয়েথাকে যাতে করে গাছের কাঠামোগত আকৃতি গড়ে তোলা যায় এবং এর প্রভাবে পরবর্তীবছরগুলোতে গাছের আকার আকৃতি বজায় থাকে ।
শীর্ষের উচ্চতা
মাটি থেকে প্রধান কান্ড যা শাখা প্রশাখা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, তাকে শীর্ষবলে। যে সকল গাছে প্রধান কান্ড মাটি হতে ৭৬ বা ৯২ সে. মি. উপরে শাখাপ্রশাখা বের হয়ে ঝোপালো হয় তাদের নিম্ন শীর্ষদেশীয় এবং যখন মাটি হতে ১২২সে. মি. উপরে ঝোপালো হয়, তাদের উচ্চ শীর্ষদেশীয় গাছ বলে। উচ্চ শীর্ষদেশীয়গাছে কাঙিক্ষতভাবে আন্তপরিচর্যা যেমনঃ সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান প্রভৃতির করাসহজ কিন্তু কীটনাশক ছত্রাকনাশক ছিটানো কঠিন।
শাখার সংখ্যা এবং বিস্তৃতি
গাছে যদি মাঝারি সংখ্যার শাখা-প্রশাখা অর্থাৎ ৪-৭ টি প্রশাখা থাকে তখন গাছযান্ত্রিকভাবে দৃঢ় এবং খোলা মেলা হয় ফলে বাগানের কাজ পরিচালনা সহজ হয়।
প্রশাখার  সুবিন্যাস ও নিয়ন্ত্রিত আকার আকৃতি
প্রশাখা এবং আভ্যনত্মরীণ শাখা-প্রশাখা সম্পূর্ণভাবে না দিয়ে উপযুক্ত আকারএবং আকৃতি প্রদান করে গাছের উচ্চতা দমিয়ে রাখা যেতে পারে। দুইবছর পর এদেরবয়স্ক পুরানো ডালের মাথা সম্পূর্ণ ছেটে দিলে সামান্য পরিমাণ নতুন শাখা পায়।পেয়ারা এবং লেবু জাতীয় ফলে পানি সাকার (Water sprout) বের হওয়া একটি বড়সমস্যা যা এ পদ্ধতিতে দূর করা যায়।

প্রুনিং বা ছাঁটাই করণের নীতিমালা
কিভাবে প্রুনিং করা যায়
প্রুনিং করার জন্য আদর্শ কোন পদ্ধতি নেই। সাধারণত গাছের উপরের অংশ থেকেশুরু করে তারপর নিচের দিকে প্রুনিং করা হয়। সকল মরা, শুকনা ডাল-পালা, রোগাক্রান্ত, কীট আক্রান্ত এবং বৃদ্ধি ঝিমিয়ে  থাকা প্রশাখা অপসারণ  করতেহবে। ছোট শাখা- প্রশাখা যেগুলো এক বৎসরের মধ্যে অবাঞ্জিত মনে হতে পারেতাদের বাধা প্রদানকারী শাখা প্রশাখা হিসাবে ধরে নিতে হবে এবং অপসারণ করতেহবে। মরা ডাল-পালা কাটার সময় কিছুদুর সুস্থ্য অংশসহ কেটে ফেলতে হবে যাতেকরে সুস্থ্য টিস্যু শেষ কর্তিত স্থানের চারদিকে বৃদ্ধি পেয়ে ক্ষতস্থান পূরণকরতে পারে।
গাছের প্রকৃতি
প্রুনিং করার সময় গাছের তেজ, বয়স, জাত এবং বৃদ্ধির স্বভাব বিবেচনা করা জরুরি।
গাছের ফল ধারণ প্রকৃতি
মাতৃগাছের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রুনিং করার সময় কোন গাছের ফল ধারণ প্রকৃতিএবং একই গাছের বিভিন্ন জাতের মধ্যে  সুনির্দিষ্ট বৈষম্য সম্পর্কে ধারণাথাকতে হবে। কোন জাতের ফল ধারণ প্রকৃতিকে লক্ষ্য রেখে এমনভাবে প্রুনিং করতেহয় যাতে করে ভাল ফল/সায়ন পাওয়া যায় এবং সহজেই সায়ন সংগ্রহ করা যায় ওঅর্থনৈতিকভাবে বাজারজাত করা যায়।
সময় এবং মৌসুম
মাতৃগাছের প্রুনিং এর জন্য সময় এবং মৌসুম বিবেচনায় আনা জরুরি। কারণ অসময়েপ্রুনিং করলে তা সায়ন বা ফল ধারনের জন্য বাঁধা হয়ে তাঁড়াবে। অত্যাধিক খরা , দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম এবং প্রচন্ড শীতের সময়ে কখনও প্রুনিং করা উচিত নয়, পত্রপতনশীল গাছে ফল থাকা অবস্থায় প্রুনিং করা ঠিক নয়। পত্রপতনশীল গাছেরক্ষেত্রে পাতা ঝরে পড়ার একমাস পর পরই প্রুনিং করা উচিত। গাছের পাতাসুপ্তাবস্থায় থাকাকালীন সময়ে প্রুনিং করলে এবং পরবর্তী মাসগুলোতে নিম্নতাপমাত্রা অব্যাহত থাকলে তা গাছের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হয়। এই সকল ক্ষেত্রেনিম্ন তাপমাত্রার সময়কাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর কিছুটা বিলম্ব করে প্রুনিংকরা উচিৎ।
শাখা প্রশাখার প্রকারভেদ অনুসরণ
বড় ডালের নির্দিষ্ট অংশে কাটার সময় কাটার স্থান থেকে ৩০ সেমিঃ দূরে নীচেরদিক থেকে করাত দিয়ে প্রথমে কাটতে হবে এবং কাটার গভীরতা কতটুকু হবে, তাশাখা-প্রশাখার আকারের উপর নির্ভর করবে। তবে এমন গভীরতা পর্যন্ত কাটা যাবেযতক্ষণ পর্যন্ত উপরের অংশ না বেঁকে যায়। এরপর শাখার উপরের অংশে ২.৫ সেমিঃঅথবা প্রথম কাটার স্থান থেকে আর একটু দূরে দ্বিতীয় কাটা দিতে হবে।  এ বড়শাখা কাটার উপযুক্ত পদক্ষেপ দেখানো হয়েছে। কর্তিত অংশ মসৃন হতে হবে এবং ঐঅংশে আলকাতরা দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে। তা না হলে ঐ অংশটুকু সৌরতাপে ফেটে যেতেপারে অথবা বৃষ্টিতে ভিজে বা আর্দ্রতা পেয়ে নানা রকম রোগ জীবাণু ও পোকামাকড় দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হতে পারে।
শেষ কর্তনের উপর আকৃতি প্রদান
সকল শেষ কর্তন যতদূর সম্ভব অবশিষ্ট অংশের কাছাকাছি হতে হবে। স্টাব (Stub) , উদগত শাখা (Lips) কখনই রাখা যাবে না কেননা এগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে পচনঘটাবে যা ক্ষতস্থান পূরণ করতে বাধা দিবে। এ ধরণের ক্ষতস্থানকে কীভাবেসুনির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় তা এ দেখানো হয়েছে। বৃত্তাকার কর্তনের উপরে এবংনিচে বাকল চিহিৃত করতে হবে এবং অতিরিক্ত কাঠ বাটালির সাহায্যে অপসারণ করতেহবে। সকল প্রকার ক্ষত আলকাতরা দ্বারা ড্রেসিং এর মাধ্যমে আবৃত করে দিতেহবে। যেসকল গাছ কম তেজস্বী এবং যাদের- ক্ষতস্থানের কলাসমূহে ধীরে ধীরে পূরণহয়, তাদের ক্ষেত্রে কর্তিত অংশে আবৃত না করলে খুব সহজে এবং দ্রুত পচন ধরে।
কোথায় কাটতে হবে
সব সময় সুস্থ্য সবল কুঁড়ি বা পর্বসন্ধির ঠিক উপরেই শাখা কাটা উচিত কেননা এঅঞ্চলেই ক্যম্বিয়াম বা বৃদ্ধিকারী কোষসমূহ বেশি পরিমাণে থাকে এবং গাছেরবৃদ্ধি জনিত পরিবর্তন অর্থাৎ কুঁড়ি বা পর্বসন্ধি থেকে নতুন শাখা-প্রশাখাবের হওয়ার সুবিধা হয়। শাখা এমনভাবে  কাটতে হবে যেন কাটার নিম্নাংশ কুঁড়ি বাপর্বসন্ধির কুশি গজানো দিকের ঠিক বিপরীত দিকে থাকে। কর্তিত অংশের কলাসমুহসম্পূণরুপে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্তিত অংশ এনামেল পেইন্ট দ্বারা আবৃত করেরাখতে হবে। গাছের বৃদ্ধির দিক নিয়ন্ত্রণের জন্য শাখাকে পর্বসন্ধির ঠিকনীচে কাটলে নতুন করে কুশি গজানো বন্ধ হবে।
প্রুনিং এর যন্ত্রপাতি
প্রুনিং এর সময় অবশ্যই ধারালো ছুরি, সিকেচার অথবা করাত ব্যবহার করতে হবে।এসব যন্ত্রপাতি পরিষ্কার পরিছন্ন হতে হবে এবং গাছের অঙ্গসমূহ ভূমির সাথেখাড়াভাবে অথবা তীর্যক ভাবে কাটতে হবে।
শাখা-প্রশাখার প্রকৃতি
ফলগাছ বেশি ঝোপালো এবং ডালপালা ঘন হলে কিছু সংখ্যক ডালপালা কমিয়ে দিতে হবেযাতে করে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পেতে অসুবিধা না হয়। প্রম্ননিং এর সময় খেয়ালরাখতে হবে যেন মরা, শুকনো, রোগাক্রান্ত দূর্বল ও পোকা আক্রান্ত ডালপালাগাছে না থাকে। হেলে পড়া, নুয়ে পড়া ও পানি শাখাসমূহও অপসারণ করতে হবে।
প্রুনিং বা ছাঁটাইকরণ পদ্ধতির ধরন
অগ্রভাগ ছেদন
গাছের যেকোন অঙ্গের অগ্রবর্তী অংশসমূহ কেটে অপসারণ করাকে অগ্রভাগ ছেদন বলে।ডগার প্রাধান্য দূর করার জন্য এবং পার্শ্ব থেকে নতুন ডালপালা গজানোর জন্যঅগ্রভাগ ছেদন করা হয়। তাছাড়া কিছু ফলের ক্ষেত্রে (যেমন, বরই) নতুনশাখা-প্রশাখা পাবার জন্য অগ্রভাগ ছেদন করা হয় যাতে করে পরবর্তী মৌসুমে বেশিপরিশাণ সায়ন যাওয়া যায়। শাখা-প্রশাখার কচি অংশ এক প্রকার বিশেষ ধরণেরহরমোন উৎপন্ন করে যা পার্শ্বীয় পুষ্পমুকুল গঠনে বাঁধা দেয়। অগ্রভাগ ছেদনেরউদ্দেশ্য হল গাছকে খাটো এবং ঝোপালো করা।
পাতলাকরণ
গাছের কিছু কিছু অংশ যেমন-ডাল-পালা, জলশোষক  , পাতা, ফল ইত্যাদি অপসারণ করাকে পাতলাকরণ বলে। কোন শাখার অগ্রভাগ ছেদন করতে হলেতার মাথা কেটে দিতে হয় কিন্তু ঐ শাখাকে পাতলাকরণ  করতে হলে তার গোড়ায় কেটেদিতে হবে ।

মাতৃগাছে সারপ্রয়োগ

ফল উৎপাদন অনেকটাই মাটির উৎপাদন ক্ষমতা/উর্বরতা এবং মাটির ব্যবস্থাপনার উপরনির্ভর করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান সার হিসেবে যোগ করে মাটিরউৎপাদন  ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। চাষাবাদ পদ্ধতিও এমন হওয়া উচিত যা মাটিরউৎপাদন ক্ষমতা রক্ষা করবে। মাঠ শস্যের তুলনায় ফলগাছের অধিক পুষ্টি উপাদানদরকার। বাংলাদেশে ফলগাছের বাগানে সার প্রয়োগ অনিয়মিত এবং ক্রটিপূর্ণ।সুতরাং উৎপাদন বৃদ্ধিও জন্য কম ফল উৎপাদনকারী গাছে সারা বছর ধরে নিয়ম মেনেসার প্রয়োগ করা দরকার।
মাতৃগাছের সার প্রয়োগ একটি অত্যাবশ্যক কাজ। সার প্রয়োগে গাছের বৃদ্ধিত্বরান্বিত হয় এবং সায়ন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। মাতৃগাছ থেকে উন্নত মানের অধিকসায়ন পেতে হলে প্রতি বছর মাটিতে সার প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ ফলগাছ মাটি থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে। তাই প্রতি বছর জমিতে সারপ্রয়োগ না করলে মাটির উর্বরতা কমে যায়। ফলশ্রুতিতে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, রোগ-পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পায়, সর্বোপরি ফলন কমে যায়। কাজেই সঠিক সময়ে সঠিকমাত্রায় এবং সঠিক পদ্ধতিতে ফলগাছে সার প্রয়োগ করা উচিত। এছাড়া বাড়ন্তগাছের বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সারের পরিমাণও প্রতিবছর বৃদ্ধি করাউচিত।
সার প্রয়োগের নীতিমালা 
ক) জৈব বা অজৈব কোন প্রকার সারই গাছের গোড়ার খুব কাছে প্রয়োগ করা উচিত নয়।ছোট গাছের ক্ষেত্রে গোড়া থেকে ৩০ সেমি. এবং বড় গাছের ক্ষেত্রে গোড়া থেকে ৫০সেমি. দূর দিয়ে গাছের বিস্তৃতি (ক্যানোপি) বরাবর মাটির সাথে  মিশিয়ে সারদিতে হবে।
খ) সার প্রয়োগকৃত এলাকা গাছের ক্যানোপির সমান হবে। কারণ শিকড়ের বিস্তৃতি ও ক্যানোপির মধ্যে একটা আন্তসম্পর্ক বিদ্যমান।
গ) ভরদুপুরে গাছের ছায়া যতদুর বিস্তৃত থাকে ঠিক ততটুকু জায়গাতেই সার প্রয়োগ করতে হবে।
ঘ) সকল জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগের পর কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ভালভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হতে।
ঙ) গোড়ার চারদিকে নালা তৈরি করে তাতেও সার প্রয়োগ করা যায়। সার প্রয়োগের পর নালাগুলি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
চ) সার প্রয়োগের পর গাছে পানি দিতে হবে, যাতে গাছ সহজেই খাদ্যোপাদানসমূহ পরিশোষণ করতে পারে।
ছ) বৃষ্টির মধ্যে সার প্রয়োগ করা উচিত নয়।
জ) সকল প্রকার সার একত্রে মিশিয়ে প্রয়োগ না করাই ভাল।
ঝ) সার প্রয়োগের পর গাছের চারদিকে মাটি দিয়ে আইল তৈরি করে দেয়া উচিত, যাতে বৃষ্টি বা সেচের পানির সাথে সার ধুয়ে না যায়।
ঞ) সার প্রয়োগের পর মালচিং করলে ইউরিয়া সার এর অপচয় কম হয়।
গাছে সারপ্রয়োগ পদ্ধতি
গাছের খাদ্য সংগহকারী শিকড়ের অবস্থানের উপর নির্ভর করে কতটুকু জায়গায় বাকোন স্থানে সার প্রয়োগ করতে হবে। ফলের প্রজাতি এবং মাটির প্রকৃতির কারণে এবিষয়ে যথেষ্ট তারতম্য লক্ষ করা যায়। সাধারণত গাছের খাদ্য সংগ্রকারীশেকড়গুলি বৃত্তাকারে সর্ববাহিরের শাখার কাছাকাছি বিরাজ করে। নিম্নে সারপ্রয়োগের কার্যকর পদ্ধতিগুলো হলঃ
মাটির উপরিস্তরে সার প্রয়োগ
ছোট গাছের নিচে ছিটিয়ে সার প্রয়োগ করা যায়। সার প্রয়োগের পর ভালভাবে মাটিরসাথে মিশিয়ে পানি দিলে তবেই সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়। বছরের পর বছর মাটিরউপরিস্তরে সার প্রয়োগের ফলে গাছ উক্ত স্তরের কাছাকাছি শিকড় উৎপাদনে সচেষ্টহয়। অধিকন্তু অগভীরমূলী গাছ শুষ্ক মৌসুমে গভীরমূলী গাছের চেয়ে বেশিক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। এছাড়া ছোট ছোট গর্ত করে সার প্রয়োগ করা সবচেয়ে ভাল ।
নালা পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ
গাছের শিকড় অঞ্চলের কাছাকাছি সার প্রয়োগের উদ্দেশ্যে নালা পদ্ধতি ব্যবহারকরা হয়ে থাকে। গাছের বহিঃ শাখা-প্রশাখার নিচ দিয়ে বৃত্তাকারে ৬০ সেমি. গভীরনালা খনন করা হয়। অতঃপর নালাটি কম্পোস্ট দিয়ে পূর্ণ করা হয় যার সাথেপরবর্তীতে অন্যান্য সার প্রয়োগ করা হয়। এই পদ্ধতির অসুবিধা হল, শিকড় যতখানিস্থান জুড়ে বিস্তৃত থাকে তার সামান্য একটা অংশে কেবল সার প্রয়োগ করা হয়এবং নালা খননকালে অনেক শেকড় আঘাত প্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

মাতৃগাছের জন্য চারা সংগ্রহ

চারা সংগ্রহ
সঠিক মাতৃগাছ নির্বাচন, সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বংশবিস্তার, ফলের উৎপদনবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগৃহীত ফলগাছের চারটি যাতে উচ্চফলনশীলএবং অবিকল কাঙ্খিত মাতৃগাছের গুণাগুণ সম্পন্ন হয় সেজন্য প্রথমে মাতৃগাছচি‎হ্নিত করতে হবে এবং মার্তৃগাছের বাগান স্থাপন করতে হবে।
কেননা একজন ক্রেতার পক্ষে ফলগাছেরচারা /কলম ক্রয় করার সময় যে বিষয়গুলি বিবেচনায় নেয়া জরুরি, তা হলোঃ
লমটি কাঙিক্ষত জাতের মাতৃগাছ থেকে উৎপাদিত কিনা?
নির্বাচিত কলম/চারাটি অবশ্যই অঙ্গজ উপায়ে উৎপাদিত এবং গুণগতভাবে হুবহুকাঙ্খিত জাতের মাতৃগাছের মত হতে হবে। কেননা বীজ থেকে উৎপাদিত ফলের চারাগুণাগুণ এর দিক থেকে কখনও সম্পূর্ণ মাতৃগাছের মত হয় না।
মাতৃগাছটি উপযুক্ত কিনা?
ফলগাছের চারা উৎপাদনের জন্য কাঙ্খিত গুণাগুণসম্পন্ন , রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণমুক্ত মাতৃগাছ নির্বাচন করা অপরিহার্য। ভাল মাতৃগাছ ছাড়া ভালকলম উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। যেমন আমের ক্ষেত্রে ম্যালফরমেশন ওএ্যানথ্রাকনোজ, পেয়ারার ক্ষেত্রে এ্যানথ্রাকনোজ দ্বারা আক্রান্ত চারা/কলমকোন ভাবেই রোপনের জন্য সংগ্রহ করা উচিত নয়।
কতটুকু উচ্চতার চারা/কলম সংগ্রহ করা উচিত ?
কখনই অতিলম্বা বা অতি খাট চারা/কলম সংগ্রহ করা উচিত নয়। অতি লম্বা চারা/কলমস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় না। আবার একদম ছোট চারা /কলম মরে যাওয়ারসম্ভাবনা থাকে। মূল ও কান্ডের মধ্যে সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে। সাধারণভাবে মূলও কান্ডের মধ্যকার অনুপাত যাদ ১ : ৩ অথবা ৪ হয় এবং চারা /কলমের বয়স কমবেশি ১ বছরের কাছাকাছি হয় এবং সতেজ ও সুস্থ্য সবল হয় তবে সেই চারা/কলমসংগ্রহ করাই উত্তম।

বিভিন্ন ফলগাছে ছাঁটাইকরন

আম গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং
ক) আম গাছের ক্ষেত্রে ফল সংগ্রহের পরপরই (জুন-আগস্ট) হাল্কা ভাবে ছেঁটেদেয়া হয়। সাধারণত অন্যান্য ফলগাছের মত আমের ক্ষেত্রে ট্রেনিং খুব বেশিগুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ প্রাকৃতিকভাবে এটি ডোম আকৃতির হয়ে থাকে। রোপণের পরপ্রায় চার বৎসর পর্যন্ত ছাঁটাই ছাড়াই গাছকে বাড়তে দেয়া উচিৎ। তারপর গাছেরকেন্দ্রস্থিত কিছু ডাল-পালা পাতলা করে দেয়া উচিত।
খ) বাংলাদেশে বেশির ভাগ জাতের আম গাছই খাড়া প্রকৃতির। এদের অগ্রভাগস্বাভাবিক আকৃতির এবং সমআকৃতির শাখা-প্রশাখা মিলে গাছকে একটি ছাতার মতআকৃতি দান করে।
গ) পুরনো বা বয়স্ক গাছে ডালে-পালার ছাঁটাই করা প্রয়োজন যাতে করে বেশিপরিমাণ আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং পোকা-মাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাযায়। গাছে ফল ধরা অবস্থাতে কোন কোন ক্ষেত্রে গাছের পরিধির দিকে যেসবডালপালা থাকে তাদের চাইতে কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত ডালপালা কেটে ফেলা উচিত।এতে করে প্রচুর সূর্যালোক এবং আলো-বাতাস চলাচল করবে এবং বেশি সায়ন যাওয়াযাবে।
ঘ) আদিজোড়ের নিজ থেকে যেসব শাখা-প্রশাখা বের হবে সেগুলো কাঙ্খিত নয় (Off shoots) এবং অবশ্যই অপসারণ করতে হবে।
ঙ) অবাঞ্ছিত জল শোষক , খর্ব এবং দুর্বল শাখাসমূহ যেগুলো প্রধান শাখার নিচে ছায়াতে জন্মায় সেগুলো কেটে ফেলতে হবে।
চ) প্রধান কান্ডটিকে ১.৫-২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বাড়তে দিতে হবে যাতে করেআন্তপরিচর্যা করতে সুবিধা হয়। তাছাড়া গাছের বৃদ্ধির প্রথম দিকে একটি মাত্রপ্রধান কান্ডসহ গাছটিকে মাটি হতে কমপক্ষে ১-২ মিটার পর্যন্ত বাড়তে দেয়া হয়যাতে করে প্রধান কান্ডটি ভবিষ্যতে কাঠের জন্য শক্ত এবং দৃঢ় হয়।
ছ) অনেক সময় অল্প কিছু ডাল-পালা সতর্কতার সাথে ছাঁটাই করে একবছর পর পর ফলধারণের প্রবণতা কিছুটা দূর করা যেতে পারে। আমের ক্ষেত্রে কোদাল দিয়ে মূলছাঁটাই করলে তা প্রতিবছর ফল ধারণে সহায়ক হয়। যে সকল আম গাছের দৈহিক বৃদ্ধিভাল কিন্তু অনিয়মিত ফলধারী, তাদের ক্ষেত্রেও ছাঁটাই করা প্রয়োজন।জ) রোগাক্রান্ত, কীটাক্রান্ত, মরা, আধমরা ডাল ছাড়া অন্য কোন ডাল কখনই ছাঁটাই করা উচিত নয়।
ঝ) ৩০-৫০ বছর বয়স্ক গাছ বেশি করে ছাঁটাই করলে ভাল সায়ন দেয়।
কাঁঠাল গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং
ক) কাঁঠাল গাছের প্রুনিং এর উপযুক্ত সময় হচ্ছে ফল সংগ্রহের পরে জুলাই-আগস্ট মাসে।
খ) কাঁঠালের পুষ্প মঞ্জরি প্রধান শাখা-প্রশাখা খেকে অস্থানিকভাবে বের হয়।প্রধান কান্ড ১.৫-২ মি. উচ্চতা হওয়ার পরে মাথা কেটে দিলে ফল ধারণের জন্যশাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায়।
গ) কিছু সময় শেকড় অথবা নব পল্লব প্রুনিং করলে গাছ নিয়মিত ফল ধারণে উৎসাহিত হয়।
ঘ) দুর্বল, মরা, রোগাক্রান্ত এবং পোকা-মাকড় ক্ষতিগ্রস্থ শাখা-প্রশাখা প্রুনিং এর মাধ্যমে অপসারিত করতে হবে।
লেবু জাতীয় গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং
ক) চারা গাছ রোপনের এক বছর পরে প্রতি মাসে শাখা-প্রশাখা পাতলা করতে হবে এবংপরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত প্রতি ২-৩ মাসে একবার প্রুনিং করা উচিৎ।
খ) ফল সংগ্রহের পরে ফল ধারণকৃত গাছে খুবই হালকা অথবা কোন প্রুনিং করাই ঠিকনয়, গাছের কোন শাখা-প্রশাখা মাটির সাথে লেগে থাকলে পার্শ্বীয় ভাবে তা কেটেফেলতে হবে।
গ) রোগাক্রান্ত, কীটক্রান্ত, শুকনা ও দুর্বল শাখাসমূহ তাদের উৎপত্তি স্থান থেকে ছেঁটে ফেলতে হবে।
লিচু গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং
ক) প্রধানকান্ড ১-১.৫ মি. লম্বা হওয়ার পরে তার মাথা কেটে ফেলতে হয়। গাছেরকাঠামো গঠনের জন্য প্রাথমিক ট্রেনিং এর পরে হালকা প্রুনিং দরকার হয় ।
খ) গাছকে কাঙ্খিত আকার দেওয়ার জন্য আড়াআড়ি শাখা-প্রশাখা, রোগাক্রান্ত বাক্ষতিগ্রস্থ এবং মরা শাখাপ্রশাখা ছাড়া সাধারণত অন্য ডালপালা প্রুনিং করা হয়না।গ) লিচুর ফুল ধারণ অধিকাংশ নতুন ডালের চলতি বছরের বৃদ্ধি উপর নির্ভরশীল এবংপুরাতন শাখা খুব কম/অনিয়মিত ফুল উৎপাদন করে থাকে। পুরাতন শাখা কর্তনের ফলেনতুন শাখা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। যেহেতু লিচুর থোকা কিছু ডালসহ সংগ্রহ করাহয়, তাই শাখা কর্তন পরোক্ষভাবে লিচু সংগ্রহের সময় কিছুটা আপনা আপনিই হয়েথাকে।
ঘ) যখন কোন গাছ বৃদ্ধ হয়ে যায় এবং খুব ছোট আকারের ফল উৎপাদন করে তখনঅতিরিক্ত প্রুনিং করে ঐ গাছের নব্যতা (Rejuvenization) অনেকটাই ফিরিয়ে আনাহয়।
বরই গাছের প্রুনিং এবং ট্রেনিং
ক) একটি সুন্দর শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করার জন্য বরই গাছকে প্রথম ২-৩ বছরযথাযথভাবে ট্রেনিং করতে হবে। রোপণের পরে, যখন নতুন পাতা বের হয়, তখন বাঁশেরখুঁটি দিয়ে ঠেস দিতে হবে এবং গাছকে সোজাভাবে বাড়তে দিতে হবে।খ) ১-২ মি. উচ্চতার ভিতর প্রাথমিকভাবে প্রধান ৫ টি শাখা করতে হবে, যাদেরমধ্যে বায়ু চলাচল ও সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্য সুন্দর জায়গা বিরাজ করে, এইসমস্ত গাছের সুন্দর বৃদ্ধি এবং আকারের ভারসাম্যতা বজায় থাকে ।
গ) বরই গাছে নতুন বৃদ্ধি প্রাপ্ত ডালপালায় সদ্য গজানো উপরের পাতার কক্ষে ফলধারণ করে। সুতরাং গাছের একটি সুন্দর শক্তিশালী কাঠামো প্রদানের জন্যপ্রতিবছরই নিয়মিত প্রুনিং দরকার, তাতে গাছে অধিক পরিমাণে ফল/সায়ন ধারণেরজায়গা সৃষ্টি হয়।
ঘ) ঘন ডালপালা দূর করার জন্য মাঝে-মাঝে কিছূ কিছু শাখা পাতলা করা দরকার।
ঙ) ফল প্রদানের পর গরম ও শুষ্ক মৌসুমে যখন এরা পাতা ঝরানো শুরু করে তখনই প্রুনিং এর জন্য উপযুক্ত সময়।
চ) বাংলাদেশে মার্চ-মে মাস হচ্ছে প্রুনিং এর উপযুক্ত সময়। ফলের ভাল গুণগতমান এবং উপযুক্ত ফলনের জন্য ১ বছরের গাছকে ১/৪ অংশ মাথা কেটে ফেলে দেয়া হয়।           সূত্রঃ তথ্য বাতায়ন,কয়রা খুলনা।

 

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৬-২০১৭. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)