এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

লিচুর পোকা মাকড় লিচুর ফলন মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়

Lichi borar 300x213 লিচুর পোকা মাকড় লিচুর ফলন মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়উত্তর দিচ্ছেন কৃষিবিদ নূরুল হুদা আল মামুনঃ
প্রশ্ন: লিচুর ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনের প্রতিকার কি?

আজাদ আলী, বোচাগঞ্জ , দিনাজপুর
উত্তর: এ পোকা ফলের বোঁটার কাছে ছিদ্র করে এবং ভিতরে ঢোকে এবং বীজকে আক্রমণ করে। পরে ছিদ্রের মুখে বাদামী রংয়ের এক প্রকার করাতের গুড়ার মত মিহি গুড়া উৎপন্ন করে। এতে ফল নষ্ট হয় এবং বাজার মূল্য কমে যায়। প্রতিকার ব্যবস্থা হলো- লিচু বাগান নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুঁতে ফেলা। লিচু গাছ তলায় শুকনো খড়ে আগুন দিয়ে তাতে ধুপ দিয়ে ধোয়া দিতে হবে। এতে এ পোকার মথ বা কীড়া বিতড়িত হবে। ফলে লিচুর মধ্যে ডিম পারবে না। বোম্বাই জাতে এ পোকার আক্রমণ বেশী হয় তাই আক্রমণ প্রবণ এলাকায় চায়না ৩ জাত রোপন করা। এছাড়া নিম তেল বা নিমকবিসিডিন (০.৪%) পানিতে গুলে স্প্রে করে দেখা যেতে পারে। আক্রমণ বেশী হলে ২ মিলি লেবাসিড বা সুমিথিয়ন বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

প্রশ্ন: লিচুর মাইট দমনের প্রতিকার কি?

রায়হান আজীজ, কুমিল্লা
উত্তর: পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা মাকড় একটি শাখার কটি পাতায় আক্রমণ করে ও পাতার রস চুষে নেয়। ফলে আইরিনিয়াম নামক বাদামী রংয়ের মখমলের মত এক ধরনের আবরণ তৈরী হয়। প্রতিকারের জন্য লিচু বাগান নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। পাতা ভিতরের দিকে কুঁকড়িয়ে যায় শেষে আক্রান্ত পাতা শুকাতে থাকে। আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে পুঁতে ফেলা। (জুন ও আগষ্ট) জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা যেমন নিমবিসিডিন (০.৪%)। মধ্য ভাদ্র হতে কার্তিক মাস এবং মাঘের শেষ হতে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত্ গাছে ২/৩ বার মাকড়নাশক ব্যবহার করা যেমন ওমাইট ২ মিলি বা ২ গ্রাম থিওভিট বা কুমুলাস বা রনভিট প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা।

প্রশ্ন: লিচুর মিলিবাগ দমনের প্রতিকার কি?

দিদারুল ইসলাম, নালিতাবাড়ি, শেরপুর
উত্তর: এরা পাতার রস ও ডালের রস চুষে নেয় ফলে গাছ দুর্বল হয়। পোকার আক্রমণ পাতা ও ডালে সাদা সাদা তুলার মত দেখা যায়। অনেক সময় পিপঁড়া দেখা যায়। প্রতিকার ব্যবস্থা হলো- আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস স্বচ্ছ ১৫.২০ সেমি উপরে স্বচ্ছ পলিথিন দ্বারা মুড়ে দিতে হবে যাতে মিলিবাগ গাছে উঠতে না পারে। সম্ভব হলে হাত দিয়ে ডিম ও বাচ্চার গাদা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা। জৈব বালাইনাশক নিবিসিডিন (০.৪%) ব্যবহার করা। আক্রমণ বেশী হলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি রগর, টাফগর, সানগর বা সুমিথিয়ন এবং ১.৫ মিলি মিপসিন বা সপসিন মিশিয়ে স্প্রে করা।

কৃষির আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিনঃকৃষিসংবা


আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৬-২০১৭. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)