এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পক্ষ, অথবা- ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় পক্ষের কৃষি কাজ

amon 300x127 সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পক্ষ, অথবা  ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় পক্ষের কৃষি কাজ
কৃষিবিদ বকুল হাসান খান *
প্রিয় পাঠক, বর্ষাকাল তবে বৃষ্টির রিমঝম একটু কমেছে। সবাইকে শ্রাবন্তীয় শুভেচ্ছা। আসুন জেনে নেই , এ সময়ের কৃষিতে করণীয়কাজ ঃ-
আমন ধান ঃআমন ধান ক্ষেতের অন্তর্বর্তীকালীন যত্ন নিতে হবে।এখনও যারা আমন ধান রোপণ করেননি আর দেরি নয় । আজই আমন ধানের চারা রোপন করুন। নিচু জমিতে পানি নামতে দেরি হয় । দেরিতে রোপনের জন্য বি আর-২২, বি আর-২৩, বিনাশাইল এবং নাইজারশাইল ধানের চারা রোপণ করুন। প্রতিটি গুছিতে ২-৩ টি সুস্থ্য সবল চারা রোপন করুন। ধানের জমি উত্তমরুপে তৈরি করুন। আমন ধানের জমিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা করুন। এক্ষেত্রে হেক্টরে ইউরিয়া সার ছাড়া সমস্ত সার জমির শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে। বাজারে অনেক আগাছানাশক পাওয়া যায়, যেমন-এ্যামকোফিট-৫০ ইসি, কমিট ৫০০ ইসি, মিরাকল-৫০০ ইসি, লং স্টার ২৫ ইসি এগুলো প্রয়োগ করতে পারেন। প্রয়োগের পূর্বে বোতলের গায়ে লেখা নিয়মাবলী ভাল করে নিন। আর যে জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
আখের মাজরা পোকাঃ- এ সময় আখের লাল পচা দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলুন। জমিতে পানি থাকলে শুকিয়ে ফেলুন।
তুলাঃ- এখনও যারা তুরা বীজ বপন করেননি । দ্রুত তুলার বীজ বপন করুন। আমাদের দেশে তুলা বীজ ভাদ্র মাসে বপন করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। বেলে দোঁ-য়াশ মাটি তুলা চাষের জন্য উপযোগী। তবে এটেল দোঁ-য়াশ মাটি ও পলিযুক্ত এটেল দোঁ-য়াশ মাটিতেও তুলা চাষ করা যায়। মাটির জো বুঝে ৩-৪ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে নিতে হবে। জমি তৈরির সময় ৫-৬ টন জৈব সার দিতে হবে।
শাক-সবজি ঃ- ভাদ্র মাসে লাউ ও শিমের বীজ বপন করার উত্তম সময়। এ সময় মুলার বীজ বপন করতে পারেন। জমির আইলে শিমের জন্য বীজ লাগানোর জন্য ব্যবস্থুা করতে পারেন। ৪-৫ মিটার দুরে দুরে ৭৫ সেমি. চওড়া, ৬০ সেমি. গর্ত করে মাদা করতে পারেন। প্রতি মাদায় গোবর ২০ কেজি, টিএসপি ২০০ গ্রাম, এমওপি ৭৫ গ্রাম করে সার উপরি প্রয়োগ করুন। শাক সবজি গাছের গোড়ায় পানি থাকলে তা নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা নিন। সবজির অধিক ফলনের জন্য হস্ত পরাগায়ণ করুন। মনে রাখবেন, শাক সবজি চাষে অনেক লাভ বেশি । তাই শাক-সবজি চাষের দিকে বেশি করে ঝুকি নিতে পারেন। সবসময় অগ্রিম চাষ করুন, সঠিক ভাবে যতœ নিন। অধিক ফলনের জন্য দেশী-বিদেশী আধুনিক জাতের ব্যবহার করুন। এ সময়ে উৎপাদিত সবজির মধ্যে যেমন- ডাটা, গিমাকলমি, পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, ঝিঙা, শসা, ঢেঁড়স,কাকরোল, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, বেগুন। পূর্বে বপনকৃত সবজি গোড়ার আগাছা পরিষ্কার দিতে হবে। লতা জাতীয় সবজি মাচায় তুলে দেওয়ার জন্য ব্যবস্তা নিতে হবে। পাতা বা লতা বেশি হলে ছাটাই করে দিতে হবে। এ সময় আগাম শীতকলীন সবজির চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করতে পারেন।
গাছপালা ঃ- ভাদ্র মাস গাছ লাগানোর শেষ সময়। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বা কলম লাগান। যারা এখনো গাছ লাগাননি তাড়াতাড়ি লাগিয়ে ফেলুন। ভুলে যাবেন না, বছরে দু’বার গাছপালায় সার দিতে হয়। বর্ষার আগে একবার আর বর্ষার পরে আরেকবার। সার না দিয়ে থাকলে দ্রুত পূর্বে রোপণকৃত গাছপালার গোড়ার চারাপাশ কুপিয়ে দিন। আগাছা পরিষ্কার করে সার দিয়ে দিন। আরো নতুন গাছ লাগিয়ে দিন। ১ ফুট গভীর, ১ চওড়া করে গর্ত তৈরি করুন। নতুন করে গাছ রোপণ করার জন্য জৈব ও রাসায়নিক সার দিয়ে গর্ত ভরাট করে রাখুন। গর্ত ভরাটের ৭-১০ দিন পর চারা রোপনের কাজ করতে পারেন। পরিকল্পিতভাবে ফল ও ঔষধি গাছের বাগান করুন। ভাল জাতের সুস্থ, সবল নীরোগ চারা লাগাবেন। সুষম সার, আগাছা পরিস্কা ও পানি সেচ- নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। কোন রোগ-বালাই দেখা দিলে তার ব্যবস্থা নিন।
পশু সম্পদ ঃগো-খাদ্যের জন্য রাস্তা পাশে, পতিত জায়গায়খেসারি, মুগ, মাশকলাই, ভুট্টা বীজ বুনতে পারেন। কচুরি পানা সুলভ হলেও বেশি খাওয়াবেন না। গবাদিপশুকে সংরক্ষণ করা খড়, শুকনো ঘাস, ভূসি, কুড়া খেতে দিন। গবাদি পশুর আবাসস্থল মেরামত করে নিন। ঘরের চারপাশ পরিষ্কার করে রাখুন।বর্ষায় যাতে খাদ্যে সংকটে নাপরতে হয় তার জন্য গো-খাদ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। । গবাদি পশুকে খড়ের সাথে কাচা ঘাস খাওয়ান। গর্ভবর্তী গাভী ও বাছুরের যতœ নিন। গবাদি পশুর তড়কা, গলাফোলা, মুরগীর রানীক্ষেত, হাঁস-মুরগীর কলেরাসহ অন্যান্য রোগের প্রতিষেধক টিকা দিয়ে নিন। সব সময় সুষম খাদ্য পরিবেশন করুন।
বর্ষায় ক্ষতি হওয়া পুকুরেরপাড় মেরামত করুন। আবার চারা পুকুরে মাছ ছাড়ার ব্যবস্থা নিন। মাছের প্রজননের সময় পুকুরের আগাছা পরিষ্কার করে নিন। সম্পূরক খাবার দিন, সার প্রয়োগ করুন। জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে নিন। রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা করুন।
রোগমুক্ত, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সঠিক নিয়ম অনুযায়ী চাষ করুন। যে কোন পরামর্শের জন্য আপনার এলাকায় নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, নিকটের কৃষি পরামর্শকেন্দ্র অথবা উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও পশু সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করুন।

কৃষির আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিনঃকৃষিসংবাদ.কম 


আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৬-২০১৭. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)