এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় নকলায় আখ চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

Share

আখ চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে
মো. মোশারফ হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি :

আখ চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে : সমতল এবং উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমির অন্য আবাদের চেয়ে আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় শেরপুরের নকলায় আখ চাষে কৃষকের আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে। এবছর নকলা উপজেলায় বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) জামালপুর উপকেন্দ্রের আওতায় কৃষকদের মাঝে ৫টি প্লটে ১৬৫ শতাংশ জমিতে প্রদর্শনী প্লটে আখ চাষ ছাড়াও, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় আরও ৯৯০ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। আর জেলায় মোট ৩০ হাজার ৫২৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। এবছর জেলায় ৫ হাজার মেট্রিকটন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যা গেল বছরের তুলনায় দ্বিগুনের চেয়েও বেশি।

চিবিয়ে খাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাট বাজারে আখ উঠা শুরু হয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, প্রতিমন আখ ৮৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা করে পাইকারী বিক্রি করা হচ্ছে। আর প্রতিটি চিবিয়ে খাওয়ার আখ আকার অনুযায়ী খুচরা হিসেবে ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা করে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এতে করে বিভিন্ন এলাকার অল্প পুঁজির অনেকেই খুচরা আখ ও আখের রস বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খোঁজে পেয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই)’র মহাপরিচালক ড. মো. আমজাদ হোসেন বিএসআরআই-এর জামালপুর উপকেন্দ্রসহ নকলা, নালিতাবাড়ী ও হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত আখের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে তাঁরা সাথে বিএসআরআই’র জামালপুর উপকেন্দ্রের ইনচার্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানীক কর্মকর্তা ড. খন্দকার মহিউল আলমসহ বিভিন্ন স্তরের কৃষি কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

বিএসআরআই’র জামালপুর উপকেন্দ্রের ইনচার্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খন্দকার মহিউল আলম জানান, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) জামালপুর উপকেন্দ্রের আওতায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে ৩১টি প্লটে ৩১বিঘা জমিতে আখের প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হয়েছে। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, দেশের সব উঁচু ও মাঝারি উঁচু এবং অনাবাদি জমিতে আখ চাষ বাড়াতে পারলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে অধিক লাভবান হবেন। পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতি সমবৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন ইক্ষু ও কৃষি গবেষকরা।

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ১৫ মন থেকে ১৮ মন করে আখ উৎপাদন হয়। সমতল এবং উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমির অন্য আবাদের চেয়ে আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি বলেন, এদেশে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারলে, চিনি আমদানীর পরিমাণ কমে আসবে। তাতে চিনি আমদানী বাবদ কোটি কোটি টাকা বিদেশে যাওয়া কমবে, পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান। কৃষি কর্মকর্তার এমন মতের সাথে ঐকমত্য পোশন করেন বিএসআরআই ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় অনেক কৃষক।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০১৮. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)