এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

টমেটোর বীজতলা তৈরী ও তার ব্যবস্থাপনার উন্নত কলাকৌশল

Share

টমেটোর বীজতলা তৈরী

ড. এম. মনজুরুল আলম মন্ডল

টমেটোর বীজতলা তৈরী
টমেটো চাষ করা হয় চারা তৈরী করে। এ জন্য বীজতলায় বীজ বুনে সেখানে চারা তৈরী করে নিতে হয়। টমেটো চাষে সফলতার জন্য বীজ প্রথমে শোধন করে নিতে হবে। বীজের মধ্যে অনেক সময় রোগজীবানু লুকিয়ে থাকে। যেমন আগাম ধ্বসা বা আরলি ব্লাইট রোগ, মোজাইক ভাইরাস, ছত্রাক জনিত ঢলে পড়া ইত্যাদি রোগের জীবানু বীজে থাকতে পারে। মাটিতে বীজ ফেলার পর পানি পেয়ে সে সব জীবানু সক্রিয় হয়ে উঠে। ফলে চারা মারা যায়। আবার অনেক সময় বীজতলার মাটিতেও কিছু রোগজীবানু থাকতে পারে। যেমন চারা ধ্বসা বা ড্যাম্পিং অফ এবং ব্যাকটেরিয়া জনিত ঢলে পড়া রোগের জীবানু। এসব রোগজীবানুও চারাকে আক্রমণ করতে পারে। সেজন্য বীজতলার মাটিও শোধন করে নিলে ভাল হয়।

বীজ শোধন করা পদ্ধতিঃ
বীজ শোধন করা যেতে পারে কয়েক পদ্ধতিতে। ছত্রাকনাশক প্রোভেক্স দ্বারা বীজ শোধন করা সহজ পদ্ধতি। এছাড়া গরম পানিতে বীজ ভিজিয়ে শোধন করাও সহজ। ৫০০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার গরম পানিতে ৩০ মিনিট টমেটোর বীজ ভিজিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জীবানু মারা যায়। এরপর গরম পানি থেকে বীজ তুলে ছায়ায় শুকিয়ে বপন করতে হবে। আর বীজতলার মাটি চাষ দিয়ে তাতে জৈবসার মিশিয়ে পলিথিন দিয়ে দু’সপ্তাহ ভাল করে ঢেকে রেখে দিলে সূর্যেও তাপে মাটিতে থাকা অনেক জীবাণু মারা যায় ও বীজতলার মাটি শোধন হয়ে যায়। ফরমালিন দিয়েও বীজতলার মাটি শোধন করা যায়।

বীজতলা তৈরী ও সার ব্যবস্থাপনাঃ
বীজতলার জন্য বেলে দোআশঁ মাটি সবচেয়ে ভাল। রোদযুক্ত উঁচু জায়গা পরিস্কার করে ভালভাবে মাটি চাষ দিয়ে বীজতলা তৈরী করতে হবে। টমেটোর জন্য গোবর সার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যথেষ্ট পরিমাণ পচা গোবর ও অন্যান্য রাসায়নিক সার দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশে দিতে হবে। চাষের পর এক মিটার চওড়া এবং ৬-১০ ইঞ্চি উচুঁ করে সিড বেড বানাতে হবে। সিড বেডের দৈর্ঘ্য প্রয়োজন মত হতে পারে। সিড বেডে যাতে কোন অবস্থায় পানি আটকে না থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ১.৫ কেজি পঁচা গোবর, ৪০ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করতে হবে। চারার সঠিক বৃদ্ধির জন্য চারা গজানোর ১০-১২ দিন পর ইউরিয়া সার পানির সাথে মিশিয়ে (১.৫%)  স্প্রে করতে হবে।

অন্যান্য ব্যবস্থাপনাঃ
অনেক ক্ষেত্রে টমেটোর বীজ বপন করার পর পিঁপড়া বীজ নিয়ে যায় ফলে অঙ্কুুরোদগম কম হয়। তাই সর্তকতা স্বরুপ বীজতলার চারিদিকে সেভিন ডাস্ট ছিটিয়ে দিলে ঝুকি খাকে না। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে সাদা পলিথিনের ছাউনির ব্যবস্থা করতে হবে। মোটা ও সবল চারা পেতে হলে ৮-১০ দিন বয়সের চারা তুলে অন্য বীজতলায় দুই ইঞ্চি দূরে দূরে পুনরায় লাগাতে হবে যাকে বলান (Double transplanting) বলা হয়। বলান করা চারা মোটা ও সবল হয়। বলান করা চারা জমিতে রোপন করলে বাচাঁর হার ১০০%। বীজতলার মাটি স্যাতসেতে থাকলে অনেক সময় চারায় পাতা পঁচা বা গোড়া পঁচা রোগ হতে পারে। গোড়া পঁচা ও পাতা পঁচা রোগ দমনের জন্য ডাইথেন-এম৪৫ অনুমোদিত মাত্রা অনুসারে গাছ ভিজিয়ে ¯েপ্র করতে হবে। ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা বিকেলে লাগানো উত্তম।

প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার,বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট,ময়মনসিংহ

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০১৮. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)