এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

নকলা ডাক বাংলোর একাল সেকাল, পরিত্যক্ত স্থানে ফল ও শাকসবজি চাষ

Share

পরিত্যক্ত স্থানে ফল ও শাকসবজি চাষ
মো. মোশারফ হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি:

পরিত্যক্ত স্থানে ফল ও শাকসবজি চাষ ঃশেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ডাক বাংলোর ভিতরের পরিত্যক্ত জায়গায় আম্রপালী, লিচু, পেঁপে, বেগুন, লাউসহ বিভিন্ন শাক সবজি চাষ করে বাড়তি আয়ের পথ খোঁজে পেয়েছেন কেয়ারটেকার মোহাম্মদ নূর হোসেন। সে জেলা পরিষদের আওতায় নকলা উপজেলার ডাক বাংলোর পতিত জায়গায় বিভিন্ন ফল ও শাক সবজি চাষ করে বাড়তি আয়ের উৎস খোঁজে পেয়েছেন। তিনি বাংলোর ভিতরের পরিত্যক্ত স্থানে নিজে শ্রম দিয়ে সারা বছরের শাক সবজি ও মৌসুমী ফলের চাহিদা মিটিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

 

তথ্যমতে, শেরপুর জেলা পরিষদের আওতায় নকলা উপজেলায় ১৯৩৭ সালে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট (২টি ভিআইপি এবং ২টি সাধারন কক্ষ) ডাক বাংলো একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। নকলার ডাক বাংলোতে অতিথিদের কাছ থেকে ভিআইপি কক্ষের ভাড়া প্রতিদিন ২০০টাকা এবং সাধারন কক্ষের ভাড়া প্রতিদিন ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২০ডিসেম্বর তারিখ থেকে মোহাম্মদ নূর হোসেন কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ বিভিন্নজন ওই বাংলোর কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। আবু বক্কর ও অন্যাদের আমলে বাংলোর পতিত জায়গা ব্যবহার না হলেও, নূর হোসেন স্থানীয় অফিসিয়াল উর্ধ্বতন তথা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে বাউন্ডারীর ভিতরের পরিত্যক্ত জমিতে উন্নত জাতের ফল ও শাক সবজি চাষ করেন। রোপনের কিছুদিন পরেই ওইসব গাছে ফুল-ফল আসে। উৎপাদন ভালো দেখে নূর হোসেনের মনে আশার সঞ্চার হয়। পরে পতিত জায়গায় ২০ টি আম্রপালী গাছ, ৩০ টি লিচু গাছ, ১০ টি পেঁপে গাছসহ বিভিন্ন জাতের মৌসুমী শাক সবজির চাষ করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। নূর হোসেন জানান, তার সারা বছরের শাক সবজি ও মৌসুমী ফলের চাহিদা এই বাংলোর পতিত জমি থেকেই হয়ে যায়। অনেক সময় বেশি ফলন হলে কিছু বিক্রি করে বাড়তি টাকাও আয় করেন তিনি। তবে চোখে-মুখে হতাশা নিয়ে বলেন, আমার জন্য আলাদা কোন ঘর বা কক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় একটি ছোট টিনের চালা ঘরে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রাত্রীযাপন করতে হয়। তবে জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান দায়িত্ব নেওয়ার পরে নকলা ডাক বাংলোর সার্বিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি জানান। ভবনের রং করাসহ বাংলোর সার্বিক উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে অতিথিরা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।

 

নকলা উপজেলাটি বিভিন্ন কারনে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ডাক বাংলোর কক্ষের চাহিদা বরাবর বেশি থাকে। অনেক সময় অতিথিদের একসিটে দুইজনকে বা অন্যের বাসায় রাত্রিযাপন করতে হয় বলেও জানাগেছে। এমন এক অতিথি সেকায়েপ-এর পাঠাভ্যাস কর্মসূচি (ডিআরএইচ)’র প্রোগ্রাম অফিসার আশরাফুজ্জামান মন্ডল বলেন, আমার চাকরির সুবাধে বছরে কয়েকবার নকলাতে আসতে হয় এবং ডাক বাংলোতে অবস্থান করতে হয়। মাঝে মাঝে সিটের সংকট হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিআরএইচ’র সংগঠকদের বাসায় অবস্থান করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি নকলা ডাক বাংলোতে আরও কক্ষের ব্যবস্থা করতেন তাহলে একদিকে আমাদের মতো অতিথিদের থাকার সুব্যবস্থা হত, অন্যদিকে বাড়ত জেলা পরিষদের আয়।

পরিত্যক্ত স্থানে ফল ও শাকসবজি চাষ

এবিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান বলেন, নূর হোসেনের উদ্যোগ ও পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন ফল ও শাক সবজি বাগানের সফলতা আমাকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই উদ্যোগ দেখে বেকার যুবক ও যুব নারীরা পরিত্যক্ত জমিতে ফল ও শাক সবজি চাষ করে বেকারত্ব গোচাতে আগ্রহী হবেন বলেও মনে করছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান। তাছাড়া দেশের সব কয়টি ডাক বাংলোর পরিত্যক্ত জমিতে এমন সবজি ও ফলের বাগান গড়ে তুলতে পারলে, দেশের মোট পুষ্টি চাহিদা পুরনে কিছুটা হলেও সহায়ক ভুমিকা পালন করবে, পাশাপাশি বাড়বে জেলা পরিষদের আয়ও, এমনটাই মনে করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০১৮. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)