এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

নকলা নালিতাবাড়ীতে ছাদকৃষিতে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

Share

ছাদকৃষিতে আশার আলো

মো. মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

ছাদকৃষিতে আশার আলো  ঃশেরপুর জেলার নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ছাদকৃষির বিপ্লব শুরু হয়েছ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (বিনা)’ নালিতাবাড়ীর উপকেন্দ্রের আওতায় এবং নকলা কৃষি অফিসের তত্বাবধানে ছাদ কৃষির যাত্রা শুরু হয়েছে।

দেশের মোট কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরজমিনে দেখাযায়, জেলার প্রায় সব কয়টি উপজেলায় বড় বড় ভবনের সৌখিন মালিকরা তাদের বাসার ছাদে বিভিন্ন ফুল, ফল ও মৌসুমী শাক-সবজির বাগান করেছেন। এতে ব্যাপক সফলতা দেখে অন্যান্য বাসার মালিকরাও আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বড় বড় ভবন গুলোর প্রায় ছাদেই দৃষ্টি নন্দন ফুল ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। আর ওইসব বাগানে বিভিন্ন ফুল, ফল ও মৌসুমী শাক-সবজির চাষ করা হচ্ছে। এতে করে মোট জমির ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে কৃষি আয়। অল্প হলেও মিটছে পুষ্টি চাহিদা। কিছু হলেও শাক, সবজি ও ফুল, ফল ক্রয়বাবদ টাকা বেচে যাচ্ছে কৃষক তথা বাসা বাড়ীর মালিকদের।

এই কৃষি ব্যবস্থা সর্বসাধারণের মধ্যে বিস্তারের লক্ষ্যে তথা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন।

তার অংশ হিসেবে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা উপকেন্দ্রে (বিনা)’র প্রতিটি ভবনের ছাদে ছাদকৃষি তথা ছাদ বাগান করার কাজ চলছে। তাতে বিভিন্ন ফল, ফুল, শাক, সবজিসহ বিরল প্রজাতির বেশ কিছু ফল, ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। এই ছাদ বাগানের সুবিধাদি গুলোর মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো- এতে গবাদি পশুর ধারা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এবিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা উপকেন্দ্র (বিনা) নালিতাবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা) নাসরীন আক্তার জানান, তাঁর তত্বাবধানে নালিতাবাড়ীর বিনা উপকেন্দ্রের ছাদ বাগান সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে। তাঁর বিশ্বাস কৃষি উন্নয়নে এমন উদ্যোগকে সবাই সাদরে গ্রহন করবেন এবং ভবনের মালিক সবাই তাদের বাসার ছাদে বাগান গড়ে তুলবেন। এতে ফুল, ফল, শাস, সবজির চাহিদা কিছুটা মিটবে, বিশেষকরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। সোনার এই কৃষি প্রধান দেশ হবে আরও সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী। তাছাড়া সরকারি প্রতিটি দপ্তরের ভবনের ছাদ গুলোতে এমন বাগান তথা ছাদ কৃষির ব্যবস্থা করতে পারলে বাড়বে কর্মসংস্থান, পক্ষান্তরে কমবে বেকারত্ব এমনটাই আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

এবিষয়ে নকলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, তিনি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নকলা পৌরসভা ববনের ছাদে নিজ উদ্যোগে ফুল-ফলের বাগান করে দিয়েছেন। এর সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন। কেউ কেউ নিজের বাসার ছাদে বাগান করে সফলতা পেতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ছাদকৃষিতে আগ্রহী করতে আমরা ভবন মালিকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছি, তারা যেন নিজ নিজ ভবনের ছাদগুলো পতিত না রেখে, বরং সাধ্যানুযায়ী ছাদ বাগান গড়ে তুলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ূন কবীর জানান, ছাদ কৃষি সম্প্রসারনের জন্য ভবনের ছাদে বাগান গড়ার লক্ষ্যে তাদের কৃষি কর্মকর্তাগন নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে নকলা শহরের প্রায় ভবনের ছাদেই মালিকরা নিজ উদ্যোগে বাগান গড়ে তুলেছেন। বাকি ছাদ গুলো যেন ছাদকৃষিতে পরিণত করা যায় এর জন্য বাসার মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী কিছু দিনের মধ্যেই উপজেলার সব কয়টি ভবনের ছাদেই বাগান গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০১৮. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)