এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

ভিক্ষাবৃত্তি পরিত্যাগ করে হাসিনা মোমেনার পরিবার স্বাবলম্বিতা অর্জনের পথে

Share

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস :

হাসিনা মোমেনার পরিবার স্বাবলম্বিতা ঃভিক্ষাবৃত্তি পরিত্যাগ করে গ্রামে গ্রামে ভ্রাম্যমান তরকারির ব্যবসা করে স্বাবলম্বিতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সংগ্রামী হাসিনা মোমেনার পরিবার। ভিক্ষাবৃত্তিকে বিদায় জানিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াবার জন্য অনেকের জন্যই অনুকরণীয় হতে পারে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রামপাল সদর ইউনিয়নের শ্রীফলতলা গ্রামের মোমেনা ও হাসিনার সংগ্রামী জীবন। অতি সামান্য পুজি ও দুইটি ভাড়ায় করা ভ্যান নিয়ে মোমেনা তার অপর বোন হাসিনাকে সাথে নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ক্ষেতখামারের সবজি, পতিত জায়গা ও নালা থেকে নানা প্রকারের শাক সংগ্রহ করে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে সবজি বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরনপোষন চালিয়ে যাচ্ছেন।

একসময় দারে দারে ভিক্ষা করে এবং স্বল্প মজুরীতে রাস্তার কাজ করে ও অন্ন জোটেনি এ পরিবারটির। ক্ষুদ্র সবজির ব্যবসা করে সে পরিবারটি এখন ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। মাত্র ৮শ টাকার মূলধন এবং প্রতিটি ভ্যানে দিন প্রতি ২০ টাকা হারে ৪০ টাকার ভ্যান ভাড়া দিয়ে দুই বোন মোমেনা ও হাসিনা ভ্যান ঠেলে দূরদুরান্তে ছুটে তরিতরকারি ও শাক-সবজি সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি তা বিক্রি করে। কারো দান ও সহযোগীতা ছাড়াই কষ্ঠের সাথে কোন মতে চলছে পাঁচ সদস্যের এই পরিবারটি। তারপরও তারা ভিক্ষাবৃত্তি করতে নারাজ। পরিশ্রমের মাধ্যমে আয় রোজগার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মোমেনা ও হাসিনা।

আমাদের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবিরের পাঠানো তথ্যর ভিতিতে জানা যায় আজ রবিবার সকালে মোমেনার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোমেনা ও তার বোন হাসিনা ছোট্র একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে তরকারি ও শাকসবজি বের করে বিক্রির জন্য ভ্যান বোঝাই করছে। এ সময় মোমেনা জানায়, সে আর তার অপর বোন হাসিনা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভাড়ায় করা দুটি ভ্যান নিয়ে তরকারি বিক্রি করে। অপর দুই বোন শাহিনা ও আমেনা বাড়িতে থেকে জেলেদের জাল বুনে যৎসামান্য আয় করে। তাদের অসুস্থ্য মা নুরজাহান বেগম বাড়িতে থাকেন।

প্রতিদিন তরকারি ও শাকসবজি বিক্রি করে তাদের প্রায় ২শ টাকা আয় হয়। এরপর আমেনা কলসিতে করে পানি ভরে ভ্যানে বহন করে বাড়ি বাড়ি দেয়। এতে তার প্রতিদিন আয় হয় ৫০ টাকা। এই টাকা দিয়ে তারা পরিবারের ভরনপোষন ছাড়াও অসুস্থ মায়ের জন্য ঔষধ ক্রয় করতে বেশ টাকা ব্যয় হয়। সরকারি সাহায্য বলতে একটি দোচালা টিনের ঘর এবং মাঝে মাঝে ভিজিএফ এর চাল পেয়েছে বলে জানান। তারা জানায় কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহযোগীতার হাত বাড়ালে তাদের এই ব্যবসাটি তারা আরও ভাল ভাবে চালিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবে।

এতে তারা অসংখ্য বেকার ও পরনির্ভর মানুষের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। এ বিষয়ে স্থাণীয় ইউপি সদস্য মোঃ মিকাইল হোসেন জানান, বর্তমানে তারা সরকারিভাবে কোন সাহায্য সহযোগীতা পাচ্ছে না। এর পূর্বে তাদের ভিজিএফ এর চাল দেওয়া হতো।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০১৮. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)