এই পাতাটি প্রিন্ট করুন এই পাতাটি প্রিন্ট করুন

রাজধানীতে বিশ্ব খাদ্য দিবস ও খাদ্য মেলা ২০১৮ এর উদ্বোধন

Share

 বিশ্ব খাদ্য দিবস ও খাদ্য মেলা ২০১৮

কৃষি সংবাদ ডেস্কঃ

 বিশ্ব খাদ্য দিবস ও খাদ্য মেলা ২০১৮ ঃ ‘কর্ম গড়ে ভবিষ্যৎ, কর্মই গড়বে ২০৩০ ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রতি বছরের মতাে এবারও কৃষি মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের কৃষি খাদ্য সংস্থা (এফএও) এর উদ্যোগে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন খাদ্য মেলা ২০১৮ এর আয়ােজন করা হয়েছে। রাজধানীর ফার্মগেটে . কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বরে ১৬ হতে ১৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপি খাদ্য মেলা শুরু হয়েছে। | দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০:০০ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে . কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বর পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়ােজন করা হয়। বিকাল টায় জনাব তােফায়েল আহমেদ এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্যমেলার উদ্বোধন স্টল পরিদর্শন করেন। বিকাল ৪.৩০ টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে প্রতিপাদ্যের ওপর আয়ােজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মােঃ নাসিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতিয়া চৌধুরী এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএও বাংলাদেশ প্রতিনিধি মি. রবার্ট ডি. সিম্পসন। বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৮ উপলক্ষে আয়ােজিত সেমিনারে প্রতিপাদ্যের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) . শামসুল আলম। মূল প্রবন্ধের ওপর আলােচনায় নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর নাজমা শাহীন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান . মাে. কবির ইকরামুল হক। কৃষি মন্ত্রণালয় এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরসংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিজ্ঞানী, গণমাধ্যমকর্মী প্রমুখ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন

প্রধান অতিথির ভাষণে তোফায়েল আহমেদ বলেন, খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। স্বাধীনতার পর দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন হতো ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। আজ দেশের মানুষ ১৬ কোটির বেশি, বসতবাড়ি ও শিল্প কলকারখানা নির্মাণে জমির পরিমাণ কমেছে। তারপরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় এখন খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে ৪ কোটি টনের বেশি। বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায়। বাংলাদেশ এখন কৃষি পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করছে। এ জন্য সরকার রপ্তানিতে ২০ ভাগ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। দিন দিন রপ্তানি বেড়েই চলছে।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৮ উপলক্ষে বেতার টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার, মাসিক কৃষিকথার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র, পােস্টার প্রকাশনা বিতরণ, মােবাইল ফোনে এসএমএস ইত্যাদির মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। খাদ্য মেলায় সরকারি বেসরকারি মােট স্টলের সংখ্যা ৬৩টি। মেলা প্রতিদিন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। জেলা উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে

বিশ্ব খাদ্য দিবসের উদ্দেশ্য হলােক্ষুধা, অপুষ্টি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি, কৃষিভিত্তিক উৎপাদনে উৎসাহ দান করা, অর্থনৈতিক প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলােকে সহায়তা উৎসাহ প্রদান, গ্রামীণ জনগােষ্ঠী বিশেষ করে মহিলা দরিদ্র মানুষদের উন্নয়নে ফসল উৎপাদন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে উৎসাহ দানসহ সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের খাদ্য কৃষি সংস্থা (এফএও) দীর্ঘদিন কাজ করে চলেছে। এফএও ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৯৭৯ সালে সংস্থার ২০তম সাধারণ সভায় হাঙ্গেরির তৎকালীন খাদ্য কৃষিমন্ত্রী বিজ্ঞানী . পল রােমানি বিশ্বব্যাপি খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের পর ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ব খাদ্য কৃষি সংস্থার প্রতিষ্ঠার দিনটিতে (১৬ অক্টোবর, ১৯৪৫) বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৭-২০১৮. কৃষিসংবাদ.কম
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত)