সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল:গোপালপুরে কৃষকের পাকা ধান কেটেও আলোচনায় এম.পি

ধানকেটে আলোচনায় এম.পি

ধানকেটে আলোচনায় এম.পি
এ কিউ রাসেল, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) :
ধানকেটে আলোচনায় এম.পি : বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা তাদের বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে রয়েছেন মহাশঙ্কায়। এমন অবস্থায় এমপি, মন্ত্রী, সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরের দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরশহরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির এম.পি স্থানীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে ধান কাটেন। পাঁকা না কাঁচা ধান কেটেছেন এই নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় এই সংসদ সদস্য।


জানা যায়, গোপালপুর পৌর শহরের সুন্দর গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. আবদুল লতিফ মিয়া ও তার ছেলে সুজন মিয়ার ১৫ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান-২৮ জাতের ধানের চাষ করেন। জমিটি বৈরান নদীর তীরবর্তী হওয়ায় ও জমিতে পানি ওঠার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার কারণে ওই ধান কৃষক সোমবার তার ছেলেকে নিয়ে কাটছিলেন। এমন সময় ওই জমির পাশের সড়ক দিয়ে গাড়ীতে করে যাচ্ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির এম.পি। তিনি ওই কৃষককে একাই ধান কাটা দেখতে পেয়ে গাড়ী থেকে নেমে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে কিছু ধান কেটে দেন


ধান কাটার এমন ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, বেশকয়েকজন ব্যক্তি একটি জমির ধান কাটছেন। এদের মধ্যে ধান কাটছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছোট মনির এম.পি। ভিডিওটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজসহ আরও স্থানীয় কয়েকজন নেতাও ধান কাটায় অংশ নেয়। আর সেখান থেকে কোনো এককর্মী ধান কাটাটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচার করতে দেখা যায়।
কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, ‘আমি এবং আমার ছেলে ধান কাটছিলাম। ঠিক তখনি এমপি মহোদয় পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি লক্ষ্য করে আমার ধান কেটে দেয়। আমার ক্ষেতের ধান পাকা, কিন্তু ডাটাগুলো দেখতে কাঁচা ও সবুজ রঙের।’


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ. এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এম.পি মহোদয় ধান কেটেছেন। যাতে যার ধান তিনি নিজেই কাটতে পারেন। সবার মধ্যে উদ্বুদ্ধ করণের ভাব আসেন। স্থানীয় এম.পি মহোদয় সে ধান কেটেছেন সেটি ব্রি ধান- ২৮ জাতের ধান। এই ধানের জমিটি বৈরাণ নদীর তীরবর্তী একদম নিচু এলাকায়। এখানে এই ক্ষেতের ধান ৮০ থেকে ৯০ ভাগ পাকা। তাই এই ক্ষেতটি অবশ্যই ধান কাটার যোগ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কৃষকদের ধান কাটতে বলা হয়। উপর থেকে দেখলে মনে হয় কাঁচা। কিন্তু ধানের শীষ দেখলে বোঝা যাবে এটি পাকা ধান। অনেকেই গুজব রটাচ্ছে কাঁচা ধান কাটা হয়েছে। ধানের জমিটি পাকা থাকার প্রেক্ষিতেই কাটা হয়েছে।’


আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছোট মনির এম.পি বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক কৃষকের ধান কাটতে দেখি। তখন আমি গাড়ি থেকে নেমে দলীয় কিছু নেতা-কর্মীদের নিয়ে ওই কৃষকের কিছু ধান কাটে দেই। আমি মূলত পাকা ধানই কেটেছি। তবে কিছু লোক সোসাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছেন কাঁচা ধান কাটা হয়েছে। এটি সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও গুজব। আমি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই ধান কেটেছি। যাতে করে সবাই এই সময়ে ধান কাটায় অংশ নেয়।’

Advisory Editor

Advisory Editor of http://www.krishisongbad.com/

Learn More →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *