মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
রুবেলঃ
বর্তমান দেশের আমিষের অনেকাংশে পুরণ করেছে পোল্ট্রি শিল্পের উৎপাদিত আমিষ। সাধারণত মুরগীর গোশত এবং মুরগীর ডিমের আমাদের আমিষের চাহিদা পুরণ করেছে সিংহভাগ। আর এই মুরগীর পালন ও ব্যবস্থাপনার উপর ডিমের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। যেগুলোর কিছু কিছু খুব মারাত্বক এবং কিছু কিছু মুল উপাদানের কোন ক্ষতি না করলেও ডিমের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। আর এর ফলে ডিমের মান গত ও দামগত পরিবর্তন হয়। যা খামারীদের অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এর সঠিক কারণ অনুসন্ধান করে তার প্রতিকার করা হলেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর এই সমস্যা গুলো মুলত প্রধান দুটিকারণে হয়ে যার প্রথমটি খামার ব্যবস্থাপণা এবং অন্যটি রোগ এর প্রাদুর্ভাবের ফলে সৃষ্ট সমস্যা । আসুন আমরা জেনে নেই কোন অবস্থা কোন কারণে সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের উপায়।
ডিমের সেল কোয়ালিটি বা খোসার বাহ্যিক সমস্যাঃ
১। অনাকংখিত গঠনঃ সাধারণত একটা নিন্দিষ্ট গঠণ থাকে খোসার কিন্তু এটা মাঝে মাঝে উদ্ভট যা সচারচর দেখা যায় না । এমন হয়ে যায়।
কারণঃ
১। এটা অনেক মুরগীর ক্ষেত্রে এটা বংশগত কারণে দেখা যায়।
২। রোগ এরকারনেঃ যেমন, রানীক্ষেত ,ইনফেকসিয়াস ব্রংকাইটিস,ল্যারিঙ্গট্রাইকাইটিস,ইগ ড্রপ সিন্ড্রোম ৭৬।
৩। মুরগীর বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর সমস্যা বাড়তে থাকে।
সমাধানঃ
যে মুরগীর এই রকমের ডিম পাওয়া তার সংখ্যা নির্নয় করা। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের প্রাপ্ত ডিমের সংখ্যার সাহায্যে আক্রান্ত মুরগির হিসাব বের করা যায় সহজে। যদি বেশি সংখ্যক মুরগির ডিমে এই ধরণের সমস্যা দেখা যায়,তাহলে বুঝে নেয়া যেতে পারে এই ফ্লকের মুরগি রোগে আক্রান্ত। তাই মুরগির জন্য উপযুক্ত রোগের জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
মুরগির ব্যবস্থাপণার মান উন্নয়ন।
জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আক্রান্ত ডিম বাছায় করে তা আলাদা করে রেখে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করা।
২ঃ পাতলা, ছিদ্রযুক্ত বা খোসা ছাড়াঃ অনেক সময় দেখা যায় ডিমের খোলস টা খুব পাতলা এবং ছিদ্র যুক্ত । এটা প্রায় সময়েই দেখা যায় । এটা বহুবিধ কারণে সৃষ্টি হতে পারে ।যেমন
কারণঃ
অনেক সময় বংশগত কারণে সৃষ্টি হয় এবং শক্ত আবরণের ডিমও তৈরি হয়।
ক্যালসিয়াম, ফসফরাস,ম্যাংগানিজ এবং ভিটামিন ডি৩ এর ঘাটতি হলে এই সমস্যা পরিলক্ষিত হয়।
ভিটামিন ডি৩ এর পরিবর্তে কোন কারণে যদি ভিটামিন ডি ২ সংশ্লেষিত হয়।
বয়স্ক মুরগীকে অতিরিক্ত পরিমানে ফসফরাস খাওয়ানোর ফলে।
সালফার ড্রাগের পার্শ্বপতিক্রিয়ার জন্যও হতে পারে।
মুরগীর ফ্লোকে যদি ৮৫-৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় রাখা হয়।
বেশি বয়সের মুরগীতে বেশি দেখা যায়।
বয়সের পুর্বেই যদি অপুষ্ট ডিম পাড়ে তাহলে।
রানীক্ষেত ,ইনফেক্সিয়াস ব্রংকাইটিস ,এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, এবং এগ ড্রপ সিন্ড্রোম ৭৬ আর কারণেই হতে পারে।
সমাধানঃ
ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাংগানিজ এবং ভিটামিন ডি ৩ রেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে হবে।
এবং তা নিয়মিত দিতে হবে।
মুরগির ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হবে। গরমের সময় তাপমাত্রা কমানোর জন্য এক্সিট ফ্যান(ঊীরঃ ভধহ) এর সংখ্যা বাড়ানো সহ অনান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। আর শীতের সময় যেন শীত ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা করা অবশ্যক।
সালফার ড্রাগের ব্যবহার যথাসম্ভব কমানো ভাল। যতটুকু না করলেও নয় তা তো করতেই হবে।,
রানীক্ষেত রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তার যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে ফ্লকের মুরগির স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে।
জৈব নিরাপত্ত¦া নিশ্চিত করা।
পরিমাণ মত ফসফরাস খাদ্যে সরবরাহ করতে হবে, যেন তার মাত্রা বেশি না হয় ।
অমসৃণ সেল অবরণঃ খোলসের উপরের ত্বক অনেক সময় অমসৃণ হয়।যা স্বাভাবিক ডিমে থাকে মসৃন।
কারণঃ
বংশগত।কিছু কিছু মুরগীর মধ্যে এই সমস্যা বংশগত কারণেই থাকে।
রানীক্ষেত অথবা ইনফেকশিয়াস ব্রঙ্কাইটিস
ডিমপাড়া মুরগী অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের ফলে।
কপার এর অভাব যদি ফিডে দেখা যায় তাহলেও এই সমস্যা হতে পারে।
সমাধানঃ
অল্প সংখ্যক মুরগিতে এই সমস্যা বুঝতে পারলে তা বাদ দেয়াই ভাল খামার থেকে।
ক্যালসিয়াম এর পরিমাণ হিসাব মত খাবারে সরবরাহ করতে হবে।
কপারের সরবরাহ বাড়াতে হবে।
রোগ দেখা দিলে তার চিকিৎসা করতে হবে।
খাবার ও পানির পাত্র সঠিকভাবে পরিস্কার করতে হবে।
মল্টেড খোলসঃ
কারণঃ
এটা খুব বেশি অথবা খুব কম আদ্রতা থাকলে।
বংশগত।
ম্যাংগানিজ এর অভাব
বাহ্যিক ভাবেই এটা হতে পারে।
সমাধানঃ
ঘরের আদ্রতা প্রয়োজন মত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
পোল্ট্রি ফিডে ম্যাংগানিজের সরবরাহ পর্যাপ্ত হতে হবে।
সাদা সাদা দাগঃ ডিমের খোলসের উপর সাদা সাদা ও মোটা মোটা দাগ দেখা যায়।
কারণ- প্রধানত বঙ্গশগত।
হলদ রঙের খোলসঃ
কারণঃ অতিরিক্ত মাত্রায় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
সমাধানঃ
যথা সম্ভব এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ কার্যকর।
ইয়ার সেল এগ(বাতাস পুর্ণ ডিমের খোলস)ঃ
কারণঃ
রানীক্ষেত রোগ,
ইনফেকসিয়াস ব্রংকাইটিস,ভুল ভাবে ডিম ব্যবস্থাপনা,
ডিম সংরক্ষন করার ক্ষেত্রে বড় অংশ উপরের দিকে রাখা।
সমাধানঃ
রোগের চিকিৎসা করানো ।
ডিম সংরক্ষণের সময় ভাল ভাবে তা সংরক্ষণ করা।
ডিমের চাহিদা ক্রমবর্ধমান সময়ের দাবিতে। তাই এখন ডিমের সঠিক বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ মানের নিশ্চয়তা সকলের কাম্য।
কৃষির আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিনঃকৃষিসংবাদ.কম